মোবাইল দিয়ে এনআইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম।

এনআইডি কার্ডে অনেক সময় নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, কিংবা অন্য যে কোনো জায়গায় ভূল হতে দেখা যায়। আর এই ভূলের কারণে এনআইডি কার্ডধারীকে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

মোবাইল দিয়ে এনআইডি কার্ডের ভূল ত্রুটিগুলো সংশোধন করা যায়, আপনি আপনার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে সহজে NID CARD সংশোধন করে নিতে পারবেন।

চলুন আমরা জেনে নেই মোবাইল দিয়ে এনআইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম।

আপনি প্রথমে play store থেকে NID wallet নামে একটি Apps ডাউনলোড করে নিবেন। তারপর হোম পেজে এসে chrome ব্রাউজারে গিয়ে সার্চ অপশনে services nidw gob bd লিখে সার্চ করবেন সার্চ করার পর আপনার সামনে একটি পেজ আসবে। আপনি সেখান থেকে রেজিস্ট্রার অপশনে ক্লিক করবেন।

রেজিস্ট্রার অপশনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি ফরম আসবে। আপনাকে ফরমটি পূরন করতে হবে। ফরমটি পূরন করার পর নিচে থাকা submit অপশনে ক্লিক করবেন। submit অপশনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে আরেকটি ফরম আসবে। ফরমটি পূরণ করে নীচে থাকা “পরবর্তী ” অপশনে ক্লিক করবেন।

ক্লিক করার পর একটা ইন্টারপেজ আসবে। সেখানে আপনার কাছে আপনার মোবাইল নাম্বার চাইবে। আপনি আপনার মোবাইল নাম্বারটি এখানে দিয়ে দিবেন। মোবাইল নাম্বার বসানোর পর “বার্তা পাঠান” অপশনে ক্লিক করবেন। “বার্তা পাঠান” অপশনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে নতুন একটি পেজ আসবে।

সেখানে আপনার কাছে ৬ ডিজিটের একটি কোড চাইবে। এই কোডটি ইতিমধ্যে  আপনার দেওয়া ফোন নাম্বারে চলে এসেছে। কোডটি বসানোর পর “বহাল” অপশনে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি পেজ আসবে।

আপনি একটু স্কিপ করে নিচে গেলে “Tap to open NID wallet” নামে একটা অপশন পাবেন। এখন আপনাকে এই ” Tap to open NID wallet ” এর উপর ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার পর একটা পেজ আসবে। এখান থেকে আপনি ” NID wallet” এ ক্লিক করে Always করে দিবেন।

Always দেওয়ার পর একটি পেজ আসবে। সেই পেজের নিচে থাকা “Start Face Scan” অপশনে ক্লিক করবেন। তারপর আপনার মুখের পেস স্কেন করা হবে। আপনার মুখের ছবি স্কেন করা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে “Ok” বাটনে ক্লিক করে দিবেন। “Ok” বাটনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে নতুন একটি পেজ আসবে।

একটু স্কিপ করে নিচের দিকে যাওয়ার পর “সেট পাসওয়ার্ড” নামে একটা অপশন পাবেন। “সেট পাসওয়ার্ড ” অপশনে ক্লিক করার পর একটা পেজ আসবে। পেজটি সম্পূর্ণ করার পর “আপডেট” অপশনে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি পেজ আসবে।

এখন এই পেজ থেকে “প্রোফাইল” নামের অপশনে ক্লিক করবেন। “প্রোফাইল” অপশনে ক্লিক করার পর নতুন একটি পেজ আসবে। এই পেজে “এডিট” (edit) নামে একটা বাটন থাকবে। আপনাকে এই “Edit” নামক বাটনটি ক্লিক করতে হবে। “Edit” (এডিট) ক্লিক করার পর নতুন পেজ আসবে।

এই নতুন পেজটির নিচে “বহাল ” নামে একটা অপশন থাকবে। সেখানে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি পেজ আসবে। সেখানে আপনার আইডি কার্ডের সম্পূর্ণ ডিটেইলস থাকবে। এখানে আপনার আইডি কার্ডে যেটা ভূল ছিলো, সেটা সিলেক্ট করে সঠিকভাবে লিখে দিবেন।

সঠিকভাবে লিখার পর “পরবর্তী” নামের অপশনটিতে ক্লিক করবেন। “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করার পর আরও একটি পেজ আসবে। পেজটিতে থাকা “পরবর্তী ” অপশনে ক্লিক করবেন। “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করার পর একটা পেজ আসবে। সেখানে লেখা থাকবে “You have total deposit of OBDT” এর মানে হলো আপনি এখানে এখনো এক টাকা ও ডিপোজিট করেন নাই।

NID CARD সংশোধন করতে হলে আপনাকে কিছু টাকা pay করতে হবে। এখন আপনাকে সেখান থেকে Home এ বেক করে চলে আসতে হবে। Home এ এসে আপনার বিকাশ অ্যাপসটি open করবেন। বিকাশে প্রবেশ করতে হলে আপনার নাম্বার ও একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশ করার পর একটা পেজ আসবে।

এই পেজে থাকা “পে বিল” অপশনটিতে ক্লিক করবেন। “পে বিল” বাটনে ক্লিক করার পর নতুন একটি পেজ আসবে। একটু নিচের দিকে গেলে “NID Service” বা “সরকারি ফি” নামে একটা অপশন থাকবে। সেখানে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর একটা পেজ আসবে। সেখানে থাকবে “আবেদন এর ধরন নির্বাচন করুন”

এখানে একটি ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর আপনার সামনে কতগুলো অপশন আসবে। অপশনগুলো হলো:

1. NID Info correction (এটি ধারা আপনি যদি নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা বা অন্যান্য কোন জিনিস ঠিক করতে চান তাহলে এটা সিলেক্ট করবেন)

2. Other Info Correction ( এর মাধ্যমে আইডি কার্ডের পিছনের যে অংশ রয়েছে সেটিকে বুঝায়। যদি আপনি সেখানে কিছু ঠিক করতে চান তাহলে এখানে ক্লিক করবেন।)

3. Both Info correction (যদি আপনার আইডি কার্ডের সামনে ও পিছনে অর্থাৎ উভয় স্থান সংশোধন করতে চান তাহলে এখানে ক্লিক করবেন।)

4. Duplicate Regular (যদি আপনার NID card হারিয়ে যেয়ে থাকে এবং আপনার এই মুহূর্তে ডুপ্লিকেট একটি কার্ডের প্রয়োজন হলে এখানে ক্লিক করবেন)

এখান থেকে যে কোনো একটা সিলেক্ট করার পর নিচে থাকা ” এনআইডি নাম্বার ” ঘরে আপনার এনআইডি নাম্বারটি বসিয়ে দিবেন। এনআইডি নাম্বার বসিয়ে দেওয়ার পর নিচের দিকে একটা অপশন আসবে “পে বিল করতে এগিয়ে যান” এখানে ক্লিক করবেন।

ক্লিক করার পর আপনার কত টাকা লাগবে তা দেখানো হবে এবং নিচের “দিকে পরের ধাপে যেতে ট্যাপ করুন” নামে একটা অপশন থাকবে সেখানে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর নতুন একটি পেজ আসবে যেখানে আপনার বিকাশ এর পিন নাম্বার চাইবে। পিন নাম্বার দেওয়ার পর পাশে থাকা বাটনটি ক্লিক করবেন।

ক্লিক করার পর একটা পেজ আসবে। সেই পেজের নিচের দিকে থাকবে “পে বিল নিশ্চিত করুন” আপনাকে এখানে চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। চাপ দিয়ে ধরে রাখার পর একটি পেজ আসবে। যেখানে আপনার বিল সফল হয়েছে কিনা জানানো হবে। সফল হয়ে গেলে সেখান থেকে হোম পেজে চলে আসবেন এবং Chrome ব্রাউজারে চলে যাবেন।

অর্থাৎ আগের জায়গায় চলে যাবেন। আগের জায়গায় যাওয়ার পর এটাকে Refresh দিবেন। Refresh দেওয়ার পর আপনাকে দেখানো হবে যে, আপনি কত টাকা Deposit করেছেন।নিচে থাকা “জাতীয় পরিচয় পত্রের ধরনটি ” সিলেক্ট করবেন। এবং পরে থাকবে “বিতরণ” এখান থেকে “Regular ” অথবা “Regular Smart Card ” সিলেক্ট করে দিবেন।

সিলেক্ট করার পর উপরে থাকা “পরবর্তী ” অপশনে ক্লিক করবেন। পরবর্তী অপশনে ক্লিক করার পর একটা পেজ আসবে।

এখন এখানে  থাকা “আপলোড” অপশনে ক্লিক করার আগে আপনি যেই ইনফরমেশন গুলো সংশোধন করেছেন সেগুলোর ডকুমেন্ট দিতে হবে। যেমন, আপনি জন্ম তারিখ ঠিক করেছেন, এখন আপলোড দেওয়ার আগে আপনাকে আপনার বার্থ সার্টিফিকেট (জন্ম নিবন্ধন)  এর একটা স্পষ্ট ছবি দিতে হবে।

এবং এই ছবিটি ১ এমবির বেশি হতে পারবে না। আপনি যদি একাধিক ইনফরমেশন সংশোধন করে থাকেন এবং এর জন্য কোন কোন কাগজ জমা দিতে হবে অর্থাৎ ছবি তুলতে হবে, সেটি যদি না বুঝে থাকেন তবে আপনি ১০৫ নাম্বার এ কল করে আপনার ইনফরমেশন বললে তারা বলে দিবে এর জন্য কোন কাগজপত্র গুলো লাগবে। যেই কাগজ পত্র গুলোর কথা বলবে সেগুলোর স্পষ্ট ছবি তুলতে হবে আর এই ছবির মান ১ এমবির বেশি হতে পারবে না।

এখন আপনি যেই যেই ইনফরমেশন গুলো আপডেট করবেন “Admit Card” এ ক্লিক করে কাঙ্খিত বিষয় সিলেক্ট  করে সেগুলো আপলোড করে দিবেন।  প্রতিবার একটি একটি করে সিলেক্ট করে আপলোড করে দিবেন।যদি আপনি birth certificate সিলেক্ট করে আপলোড দেন তাহলে files থেকে জন্ম নিবন্ধনের পিক এটাচ করে আপলোড করে দিবেন।

এভাবে যতগুলো আপলোড করবেন ততোগুলোর পিক এটাচ করে দিবেন। সবগুলো ইনফরমেশন আপলোড করার পর “পরবর্তী ” বাটনে ক্লিক করুন।  ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি পেজ আসবে।  সেখানে আপনি যে যেই বিষয় গুলো পরিবর্তন করেছেন সেগুলো দেখানো হবে। যদি সেটা সঠিক হয় তাহলে “সাবমিট ” অপশনে ক্লিক করবেন।

ক্লিক করার পর দেখানো হবে  “আপনার অ্যাপ্লিকেশনটি পেন্ডিং এ রয়েছে ” অর্থাৎ সাথে সাথে এটা সংশোধন করবেনা। যাচাই করে পরে সংশোধন করে দিবেন। এখন যদি মনে করেন আপনি যেই আবেদন করেছেন তার একটা কপি আপনার কাছে রেখে দিবেন তাহলে উপরে ডান পাশে থাকা ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করে সেভ করে রাখবেন।

মনে রাখবেন,  এই আবেদনের কারনে আপনার sms  আসবে। এটি নিয়ে আপনার নিকটস্থ নির্বাচন অফিসে যাবেন এবং সেখান থেকে আপনার আইডি কার্ডটি সংগ্রহ করে নিবেন।

আরও পড়ুনঃ

মোবাইল আসক্তির কালো দিক

কিভাবে প্রথম মোবাইল ফোনের সূচনা হয়েছিল 

ভোটার আইডি কার্ড আসল নাকি নকল তা মোবাইল দিয়ে যাচাই করার নিয়ম 

মোবাইলে 5G এর সুবিধা ও অসুবিধা

 

Leave a Comment