কিভাবে প্রথম মোবাইল ফোনের সূচনা হয়েছিলো!

মানুষ প্রথমে যোগাযোগ করে পায়ে হেঁটে, কবুতরের মাধ্যমে, পোস্ট অফিসে চিঠির মাধ্যমে, এরপর মোবাইল আবিস্কারের ফলে মোবাইলের মাধ্যমে। এইছাড়াও সভ্যতার বিকাশের সাথে বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়।

কিন্তু  সব প্রযুক্তি দিন দিন উন্নত হচ্ছে। তবে কোন প্রযুক্তি কখন আবিষ্কার হয়েছে তা আমাদের অনেকের জানা নেই। 

আজকে আমরা জানব কিভাবে প্রথম মোবাইল ফোনের সূচনা হয়েছিল এবং কখন হয়েছিলো ?

সর্বপ্রথম মোবাইল ফোন তৈরি হয়েছিলো আমেরিকার শহরে ১৯৭৩ সালে। আর এটি তৈরি করেছিলেন আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের টেলিকম কোম্পানির ইন্জিনিয়ার মার্টিন কুপার।

সর্বপ্রথম সফলভাবে মোবাইল ফোন তৈরি করে বিশ্বের বুকে স্থান করে নেওয়ায় মার্টিন কুপারকে মোবাইল ফোনের জনক বলা হয়।  মার্টিন কুপার ছিলেন একটি ছোট টেলিকম কোম্পানির মটোরোলায়।

ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিলো যে, কোনো একদিন আসবে যখন সবার হাতে হাতেই ফোন থাকবে, যা দিয়ে তারা চলন্ত বা স্থীর অবস্থায় পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হবে।

বিবিসির হিদালগোকে মার্টিন কুপার বলেছিলেন,  “সাধারণ মানুষের কাছে আমার এই কথা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো শোনাবে “। কারন, এর আগের ১০০ বছর ধরে টেলিফোন মানেই ছিলো এমন একটা ডিভাইস যা আমাদের কাজের টেবিলে থাকতো,

এই ধরনের টেলিফোন গুলোর ওজন অনেক বেশি ছিলো, এদের সাথে তার সংযুক্ত থাকতো এবং কথোপকথন চলা অবস্থায় ব্যবহারকারির অবস্থানের পরিবর্তন হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো।

বলতে পারেন এটা কুকুরের গলার শিকলের মতোই। কিন্তুু আমাদের মনে হয়েছিলো, মানুষ আসলে মৌলিক ভাবে চলনশীল এবং যে যেখানেই থাকুক না কেন সবসময় অন্যদের সাথে যুক্ত থাকবে।

কাজেই আমাদের এমন কোনো যন্ত্র বা ডিভাইস তৈরি করতে হবে যেটি দূর-দূরান্তে থাকা প্রত্যেক ব্যাক্তিকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করতে সাহায্য করবে এবং যেটি আগে কখনো তৈরি হয়নি। আর এই ভাবনা থেকেই মাত্র ৩ মাসের মধ্যে আমরা এই মোবাইল ফোন তৈরি করেছিলাম (মার্টিন কুপার)।

অনেকেই মনে করেন, উনিশশো’ ষাটের দশকে “টারট্রেক” নামের টিভি শোর চরিত্ররা “কমিউনিকেটর” নামের যে ছোট হাতে ধরা যন্ত্রটি ব্যবহার করতেন সেটাই মার্টিন কুপারকে মোবাইল ফোন তৈরিতে অনুপ্রাণিত করেছিলো।

কিন্তুু সকলের এই ধারণাকে বদলে দিয়ে মার্টিন কুপার বলেন, “সবাই যেটা মনে করছে আসলে মোটেও তেমনটা নয় বরং আমেরিকার “কমিক স্ট্রিপ ঢিক ট্রেসির” চরিত্ররা পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগের জন্য যে হাতঘড়ি ব্যবহার করেছিলো সেটা থেকেই আমরা মোবাইল ফোন তৈরির অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম।

অর্থাৎ তাদের মাথায় মোবাইল ফোন তৈরির চিন্তা এসেছিলো এই যোগাযোগ নির্ভর হাতঘড়ি দেখে। আগে কল করা হলে কলটি নির্দিষ্ট একটা স্থানে যেতো কিন্তুু বর্তমানে কল করা হলে যার কাছে কল করা হয়েছে সেই নির্দিষ্ট একজন ব্যাক্তির কাছেই যাবে।

নিউইয়র্ক এর হিলটন হোটেল মার্টিন কুপার ও তার দল প্রথম হাতে ধরা ফোনের প্রোটোটাইপটি উপস্থাপন করেছিলেন ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে। যেটা দেখতে বর্তমানের প্রচলিত মোবাইলের তুলনায় অনেক আলাদা। অর্থাৎ প্রচলিত মোবাইল ফোনের সাথে এর কোনো মিলই ছিলো না।

মার্টিন কুপার ও তার সঙ্গীদের তৈরি করা এই ফোনটি ছিলো “১০” ইঞ্চি লম্বা, “২” ইঞ্চি চওড়া এবং “৪” ইঞ্চি উঁচু। মোবাইল ফোনটি ছিলো অনেক ভারি এবং ওজন প্রায় ১ কেজির বেশি।

মাত্র ২০ মিনিট কথা বললে এর ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যেতো। মার্টিন কুপারের তৈরি ফোনটি দেখে মানুষ হেসেছিলো। কিন্তুু তখনকার দিনে এর চেয়ে ভালো কিছু তৈরি করাও সম্ভব ছিলো না।

মার্টিন কুপার বলেন, “আমরা জানতাম একদিন সকলের হাতেই একটি করে মোবাইল ফোন থাকবে কিন্তুু আমরা এটা জানতাম না যে সে ফোনে একটা সুফার কম্পিউটার, ডিজিটাল ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগও থাকবে”।

এটা আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারি নি। কারন ১৯৭৩ সালে এমন কিছুই ছিলো না। মার্টিন কুপার এর তৈরি ফোন দিয়ে তিনি সর্বপ্রথম যার সাথে কথা বলেছিলেন তিনি ছিলেন ” এটিএন্ডটি” নামক এক বড় টেলিকম কোম্পানির ইন্জিনিয়ার আর তার নাম ছিলো জোয়েল।

তারা আগে থেকেই একে অপরের সাথে পরিচিত ছিলো। মার্টিন কুপার এর তৈরি ফোন দিয়ে তিনি সর্বপ্রথম তার সাথেই কথা বলেছিলো। পরবর্তীতে কাল পরিক্রমায় মার্টিন কুপার এর তৈরি ফোনটির সাথে ধীরে ধীরে বিভিন্ন মেটেরিয়াল যুক্ত হয়ে আজকের এই আধুনিক মোবাইল ফোনে রুপ নিয়েছে।

তবে অদূর ভবিষ্যতে মোবাইল ফোন কোন অবস্থায় পৌছবে তা একমাত্র সময় বলে দিবে। হয়তো আমরা ও মোবাইল ফোনের আরো কিছু পরিবর্তন দেখে যেতে পারি। মোবাইল ফোনের আরো পরিবর্তনের অপেক্ষায় পরবর্তী প্রজন্ম।

আরও পড়ুন:

মোবাইল ফোন ভালো রাখার উপায় 

মোবাইল। হ্যাং হলে আপনার করনীয়

3G মোবাইলকে 4G করার নিয়ম 

মোবাইল আসক্তির কালো দিক