এই ৬টি উপায়ে আপনি মোবাইল আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন

বর্তমান শিশু-কিশোর ও যুব সমাজরা মোবাইলের কুচক্রে আবদ্ধ। মোবাইল আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে তারা তাদের সোনালী ভবিষ্যতের কথাই ভুলে গেছে।

ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব কিংবা টুইটার নামক নানা ধরনের সামাজিক মাধ্যমে তারা তাদের মূল্যবান সময় গুলো নষ্ট করে ফেলে। তারা মোবাইলের প্রতি এতোটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, তারা এই আসক্তি আর কাটিয়ে উঠতে পারে না।

এই আসক্তির ফলে তারা হারিয়ে ফেলে তাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও আনন্দময় দিনগুলো। মোবাইল আসক্তি কিভাবে কমাবো? কিভাবে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে? এইরকম হাজারো প্রশ্ন আমাদের মনে আসে।

তাই আজ আমরা জানব কিভাবে মোবাইল আসক্তি কমানো যায় বা এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায়

মোবাইল আসক্তি সত্যিই অনেক বড় একটা খারাপ দিক। কিন্তুু আমরা যদি কিছু সাধারণ বিষয় মনে চলি তাহলে আমরা মোবাইল ফোনের প্রতি আমাদের আসক্তি কমিয়ে আনতে পারবো।

1. নোটিফিকেশন অপ রাখা

সোশ্যাল মিডিয়া যেমন, ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু ইত্যাদি নোটিফিকেশন কিছুক্ষণ পরপরই আসে। এর ফলে এই নোটিফিকেশন গুলো দেখার জন্য আমাদের মনে এক ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

আর এই আগ্রহই আসক্তিতে পরিনত হয়। গন গন নোটিফিকেশন আসলে আমরা তৎক্ষনাৎ তা দেখার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠি। যেমন, আমার স্টোরিতে কয়জন রিয়েক্ট দিয়েছে, আজকে কে কে মেসেজ দিয়েছে, কয়জন লাইক-কমেন্ট করছে, আজকে পেজে কোন ধরনের ভিডিও আপলোড হইছে ইত্যাদি।

আর এগুলো চেক করার জন্য আমরা কিছুক্ষন পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুকি। ফলে সারাক্ষণই মোবাইল আমাদের হাতে থাকে। আর তাই মোবাইল আসক্তি কমাতে চাইলে মোবাইলের নোটিফিকেশন অপ করে রাখতে হবে।

2. দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় মোবাইল ব্যবহার করা 

যত বেশি মোবাইল ব্যবহার করবে তত বেশি মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্ত হবে। তাই মোবাইল যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করতে হবে।

চাইলে দিনের ও রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে। এছাড়া প্রয়োজন ব্যাতিত অন্য কোনো সময় মোবাইল ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

3. তিন সময় মোবাইলকে ‘না’ বলুন

আমরা অনেকেই খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল দেখি। মোবাইল না দেখলে মনে হয় যেনো খাবারই হজম হবে না।

আবার অনেকেই রাস্তা দিয়ে হাটার সময় মোবাইল ব্যবহার করি।

এর ফলে নানা ধরনের দূর্ঘটনা হতে পারে। আবার অনেকেই আলোচনার সভায় বসে মোবাইল টিপে। আমাদের উচিৎ এই তিন সময় মোবাইলকে না বলা।

4. মোবাইল ব্যবহারের পর বন্ধ রাখুন বা এরোপ্লেন মুড অন করে রাখুন

নির্দিষ্ট সময় মোবাইল দেখার পর পর মোবাইল হাত থেকে রাখার আগে মোবাইলে এরোপ্লেন মুড অন করে রাখুন বা মোবাইলটি বন্ধ করে রাখুন।

এটি হবে মোবাইল আসক্তি কমানোর সবচেয়ে ভালো একটি টিপস। পড়তে বসার আগে, ঘুমানোর আগে, কোনো জরুরী মিটিং বা রাস্তা দিয়ে হাটার সময় মোবাইল সম্পূর্ণ ভাবে অপ করে বা এরোপ্লেন মুড অন করে রাখুন।

এতে সকল ধরনের দূর্ঘটনা হাত থেকে বাঁচবেন ইনশাআল্লাহ। বসেই সাথে আরামে ঘুম ও মন দিয়ে পড়তে পারবেন।

5. বন্ধ করো গ্রুপ চ্যাট

স্কুল-কলেজের বন্ধুদের চ্যাট গ্রুপ, পাড়ার আড্ডা গ্রুপ, ফ্যামিলি মেম্বারদের চ্যাট গ্রুপ ইত্যাদি বন্ধ করে রাখুন। ফেসবুকে একবার ডুকলেই যেনো এসব আড্ডা থেকে একেবারেই বেরিয়ে আসা যায় না।

চ্যাট গ্রুপের এমন আড্ডাই আসক্তিতে পরিনত হয়।আর এই আসক্তি রোধ করতো ফেসবুকে চ্যাট গ্রুপ না রাখাই ভালো।

6. PUBG বা ফ্রী-ফায়ার না খেলা

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আসক্তিকর খেলা হলো এই PUBG ও ফ্রী-ফায়ার। যার শিকলে অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী বদ্ধ হয়ে রয়েছে। দিনের অবসর সময়ে বেশির ভাগ কিশোর-কিশোরী এই গেম খেলে কাটিয়ে দেয়।

এর ফলে মারাত্মক আসক্তির সৃষ্টি হয়। তাই মোবাইল থেকে এই ধরনের খেলা গুলো ডিলেট করে দিতে হবে।


শেষ কথা, বর্তমানে মোবাইল ফোন সহজলভ্য পন্য।  তাই এর ব্যবহারও অধিক মাত্রায় বাড়ছে। এমন কোনো মানুষ নেই যে কিনা আজ পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহার করে নি! সবার হাতেই এই মোবাইল ফোন রয়েছে।

মোবাইল আমাদের উপকারের জন্য তৈরী করা হলেও এর তীব্র ব্যবহার মানুষের আসক্তিতে পরিনত করছে। এর ফলে আমাদের যুবক সমাজ ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে উপনীত হচ্ছে।  এই আসক্তি আমাদের জীবনের আনন্দ-ভালোবাসা, হাসি-আনন্দ সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে।

তাই আমাদের উচিৎ পরিমিত মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া।  এর মাধ্যমে আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে।