যে কানে মোবাইল ব্যবহার করলে আপনার ক্যান্সার হতে পারে! জেনে নিন এখনি!

মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। মোবাইলের সাহায্যে আমরা নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকি।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো যোগাযোগ, যা আমরা এই মোবাইল ফোনের সাহায্যে করে থাকি।

আমরা সকলেই জানি যে, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তুু তারপরও আমরা এই মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক নই।

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছি যারা ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে কথা বলি।

বিশেষ করে, ব্যবসা-বানিজ্য, যোগাযোগ, তথ্য সংরক্ষণ, একে অপরের খোঁজ নেওয়া ইত্যাদি বিষয় গুলোর জন্য আমরা অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইলে কথা বলে থাকি।

এই অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইল কানের সাথে যুক্ত রাখার ফলে আমাদের শ্রবন শক্তি কমে যায়, শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি সাধন হয়।  আবার আমরা অনেকই জানি না যে, কথা বলার সময় কোন কানে মোবাইল ব্যবহার করা উচিৎ! বা কোন কানে মোবাইল ব্যবহার করলে শারীরিক সমস্যা গুলো এড়ানো যেতে পারে।

কথা বলার সময় যেই কানে মোবাইল ব্যবহার করবেন

বেশিরভাগ মানুষই কথা বলার ক্ষেত্রে ডান কানে মোবাইল ব্যবহার করে থাকেন। আমরা সাধারণত এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত না থেকেই এই ধরনের কাজ করে থাকি।  ফলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় উপনীত হতে হয়।

একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, মানুষের ডান কান মস্তিষ্কের সাথে সরাসরি  যুক্ত থাকে । তাই এই ডান কান দিয়ে প্রবেশ করা যেকোনো কিছুই সরাসরি মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে।

ফলে আপনি ছোট ছোট বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে যেতে পরেন বা অনেকই চিন্তা করার দক্ষতাও হারিয়ে ফেলে। অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, আবার অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে যায় সেই সাথে  মেধার বিকাশ ব্যাহত হয়ে যায়। এছাড়াও আরও নানা ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, যখন আমরা কথা বলার জন্য ডান কান ব্যবহার করি তখন মোবাইল থেকে নির্গত হওয়া রেডিয়েশন সরাসরি মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। এই রেডিয়েশন মানব দেহের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর।

তাই আমাদের উচিৎ কথা বলার ক্ষেত্রে ডান কানের পরিবর্তে বাঁ কান ব্যবহার করা। তবে দুই কানে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ব্যবহার করলেও ক্ষতি এড়ানো যেতে পারে।

এই থিউরি প্রমানের জন্য এখনও পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় নি। তবে ফিনল্যান্ডের বিজ্ঞানী এবং নিউক্লিয়ার সেফটি অথরিটি ২০০২ সালের একটি গবেষণায় বলেছিলেন, যখন মানুষের কোষ ফোনের সংস্পর্শে আসে তখন মোবাইল এর বাঁধা ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার এর প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার এর বাধা মানবদেহের সুরক্ষা কবচ হিসেবে পরিচিত। এটি রক্তের দূষিত পদার্থগুলোকে মস্তিষ্কে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে মস্তিষ্ক সর্বদা সুরক্ষিত থাকে।

কিন্তুু যদি কোনো কারণে এই ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে মানব দেহে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজ দেখা দিবে। ফলে টিউমারের সৃষ্টি হয়ে তা ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রুপ নিতে পারে। যা একজন মানুষকে চিরতরে নিস্তেজ, অর্থাৎ শেষ করে দিতে পারে।

আর আমরা সকলেই জানি যে, একটা মানুষ স্বাভাবিক ভাবে তখনই সুস্থ থাকে যখন তার একটি সুস্থ মস্তিষ্ক থাকে। কারন মস্তিষ্ক বিকলাঙ্গ হয়ে গেলে আপনার পুরো জীবনটাই বিকলাঙ্গ হয়ে যাবে। তাই অবশ্যই কথা বলার ক্ষেত্রে বাঁ কান ব্যবহার করুন।

শেষ কথা

যেই কানেই মোবাইল রেখে কথা বলেন না কেন, মোবাইল থেকে ক্ষতিকর রশ্মি নির্গত হবেই। আর এই রশ্মি আপনার দেহে মারাত্মক বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করবে।

তবে বাঁ কান অপেক্ষায় ডান কান ব্যবহার করলে অধিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। কারন এটি সরাসরি মস্তিষ্কের সাথে যুক্ত থাকে। তবে আপনি চাইলে হেডফোন ব্যবহার করেও দুই কানকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

কথা বলার ক্ষেত্রে হেডফোন ব্যবহার করলে মোবাইল ফোনটি আপনার কান থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থান করবে। ফলে মোবাইল থেকে নির্গত হওয়া রেডিয়েশনের মানও কম হবে। এবং আপনি শারীরিক ভাবে সুরক্ষিত থাকবেন।

আশা করি আপনি যদি উপরোক্ত পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন এবং সে অনুযায়ী কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেন, তাহলে মোবাইল থেকে নির্গত হওয়া রেডিয়েশনের এর প্রভাবে আপনার কোনো ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধীকতা সৃষ্টি হবে না।

পোস্টটি ভালোমলাগলে শেয়ার করবেন এবং আপনি যদি মোবাইল সম্পর্কে আরও নিত্যনতুন তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদের সাইটটি ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন, এবং আপনি নতুন কোন বিষয়ে জানতে চান সেটি কমেন্ট বক্সে মন্তব্য করুন।

ধন্যবাদ!

Leave a Comment