জনসম্মুখে মোবাইল দিয়ে যে কাজ গুলো ভুলেও করবেন না!

মোবাইল আমরা সকলেই কম-বেশি প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে ব্যবহার করি। মোবাইল এমন একটি ডিভাইস যা ব্যবহার করে মনে হয় পুরো পৃথিবীটাই আমাদের হাতের মুঠোয়। দিনের একটি মূহুর্তও আমরা মোবাইল ফোন ছাড়া কল্পনা করতে পারি না।

মোবাইল ফোনের কারণে আমরা এখন আর একাকিত্ব বোধ করি না। তবে আমাদের উচিৎ মোবাইল ফোনের পরিমিত ব্যবহার করা।কারণে-অকারনে যেখানে সেখানে জনসম্মুখে ব্যবহার না করাই ভালো।

আমরা অনেকেই মোবাইল দিয়ে জনসম্মুখে এমন কিছু কাজ করে ফেলি যেগুলোর জন্য আমাদেরকে অনেক আপত্তিকর বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়।

জনসম্মুখে মোবাইল দিয়ে যে কাজ গুলো করা উচিৎ নয়,

  1. উচ্চ শব্দে গান শুনা বা মুভি দেখা।
  2. অপ্রয়োজনে যেখানে-সেখানে ভিডিও করা।
  3. সভায় বা আলোচনায় বসে মোবাইল ব্যবহার করা।
  4. খাওয়ার টেবিলে বসে মোবাইল ব্যবহার করা।
  5. লোকসম্মুখে মোবাইলে মাত্রাতিরিক্ত চ্যাটিং করা।
  6. ফ্রেন্ড’দের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা গ্রুপ কলে কথা বলা।
  7. মাত্রাতিরিক্ত গেম খেলা।

1. উচ্চ শব্দে গান শুনা বা মুভি দেখা

আমরা প্রায়ই না জেনে বুঝে অপরকে কষ্ট দিয়ে থাকি। আমরা নিজেদের জীবনকে উপভোগ করার জন্য এমন কিছু কাজ করি যেগুলো অন্যের কষ্টের কারন হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা অবসর সময় কাটানোর জন্য গান শুনি বা ভিডিও দেখি। কিন্তুু আমাদের উচিৎ জনসম্মুখে এই গান শুনা বা ভিডিও না দেখা। কারন সাউন্ড বেশি দিয়ে গান শুনলে শব্দ দূষণের আধিক্য বেড়ে যায়। অনেক মানুষ আছে যাদের এই শব্দে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা হয়। যেমন, অনেকের হার্টের প্রবলেম ও মাথা ব্যাথা হয়।

হার্টের রোগীদের হার্ট অনেক দূর্বল হয় তাই উচ্চ শব্দ তাদের জন্য বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ডোলে পড়ে। এছাড়াও অনেকেরই এই গানের শব্দে মাথা ব্যাথা হতে পারে। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই শব্দ বিরক্তির কারন হতে পারে।

তাই আমাদের উচিৎ জনসম্মুখে মোবাইল দিয়ে কোনো ধরনের মিউজিক না বাজানো।

2. অপ্রয়োজনে ভিডিও করা

অপ্রয়োজনে যেখানে সেখানে ভিডিও করা আমাদের একধরনের বদঅভ্যেস হয়ে দাড়িয়েছে।

আমাদের সমাজে এখন কেউ রাস্তা-ঘাটে এক্সিডেন্ট বা অন্য কোনো ধরনের বিপদে পড়লে আমার তাকে সাহায্য করার পরিবর্তে ভিডিও করতে শুরু করি এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে টাকা ইনকাম করি।

কিন্তুু আপনি যদি ভিডিও করার পরিবর্তে ওই এক্সিডেন্ট বা বিপদে পড়া লোকটিকে সাহায্য করেন তাহলে একটি প্রানের সাথে একটি পরিবার ও বেচে যাবে। সেই সাথে মানুষ আপনাকে সম্মান করবে, শ্রদ্ধা করবে, ভালোবাসবে।

কিন্তুু আপনি যদি বিপদগ্রস্ত ব্যাক্তিকে সাহায্য করার পরিবর্তে বসে বসে ভিডিও ধারণ করেন তাহলে একটি প্রানের সাথে একটি পরিবারও শেষ হয়ে যাবে।

কোনো মানুষই আপনাকে ভালোবাসবে না বরং ঘৃনার চোখে দেখবে। তাই আমাদের উচিৎ মোবাইল দিয়ে যেখানে সেখানে অপ্রয়োজনে জনসম্মুখে ভিডিও না করা।

3. সভায় বা আলোচনায় বসে মোবাইল ব্যবহার করা

সভা বা আলোচনার স্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। যেখানে অনেক মানুষ একত্রে বসে কোনো সমস্যার সমাধান বা নতুন কিছু সৃষ্টি করা নিয়ে আলোচনা করে৷ সেখানের প্রতিটি কথাই গুরুত্বপূর্ণ হয়।

কিন্তুু আপনি যদি সেই মূহুর্তে আলোচনায় বসে মোবাইল ব্যবহার করেন তাহলে আপনার মনোযোগ সম্পুর্ন মোবাইলের উপর থাকায় আপনি আলোচনার প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়বেন।

এটা আপনার জীবনের জন্য দুর্ভোগের কারন হয়ে দাড়াবে। তাই যেকোনো আলোচনা বা সভায় বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না।

4. জনসম্মুখে চ্যাটিং করা বা গ্রুপ কলে কথা বলা

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা অপ্রয়োজনে রাস্তা ঘাটে, খেলার মাঠে, হাট-বাজারে কিংবা কোথাও যাওয়ার সময় গাড়িতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে চ্যাটিং করে বা গ্রুপ কলে একে অপরের সাথে কথা বলে।

এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় চ্যাটিং ও ফোনে কথা বলা কোনো লোকই ভালো চোখে দেখে না। বিশেষ করে পাশের বাসার আন্টি যদি এই দোষটি লক্ষ্য করে তাহলে আপনার নামে নতুন ইতিহাস গড়ে তুলবে। অর্থাৎ আপনার নামে নানাবিধ কুৎসা ও বদনাম রটাবে৷

যা আপনার জীবনের উপর মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই জনসম্মুখে মোবাইল দিয়ে অপ্রয়োজনে চ্যাটিং ও কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

5. খাওয়ার টেবিলে বসে মোবাইল ব্যবহার করা

খাওয়ার টেবিলে বসে মোবাইল ব্যবহার করা আমাদের প্রত্যেকেরই একধরনের বদঅভ্যাস।

খাওয়া টেবিলে বসে মোবাইল ব্যবহার করলে অনেক সময় মা-বাবা রেগে গিয়ে মোবাইল ভেঙে ফেলে নয়তো আমাদেরকে মাইর দেয়।

অবশ্য আমি নিজেই খাওয়ার টেবিলে বসে মোবাইল টিপার জন্য আম্মুর হাতে চড় খেয়েছিলাম। তাই আপনি যদি খাওয়ার টেবিলে বসে চড় খেতে না চান, তাহলে খাবার টেবিলে বসে মা-বাবা বা আত্মীয়স্বজন এর সামনে মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

শেষ কথা, অনেক কাজ আছে যেগুলো আমরা ছোট ভেবে করে ফেলি কিন্তুু তার পরিনাম সম্পর্কে আমরা অবগত থাকি না। জনসম্মুখে মোবাইল ব্যবহার আমাদের কাছে তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও এটি আমাদের ও অন্যের ক্ষতি করে।