ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের ব্যাটারি পরিবর্তন করা যাবে

২০২৭ সালের মধ্যে স্মার্টফোনের জন্য পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

১০ বছর পূর্বে ও যে কোনো ফোনের ব্যাক কাভার খুলে নিজের ইচ্ছে মতো ব্যাটারি পরিবর্তন করা যেতো। বর্তমানে কারিগরি জ্ঞান ছাড়া স্মার্টফোনের ব্যাটারি পরিবর্তন করা যায় না। ভবিষ্যতে আবারও স্মার্টফোনের ব্যাটারি পরিবর্তন করা যাবে।

গত ১৪ জুলাই ২০২৩ ইং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে  ভোটের মাধ্যমে আইফোনসহ সকল ধরনের স্মার্টফোনে ২০২৭ সালের ভিতর পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর এই  সিদ্ধান্তকে “রাইট -টু -রিপেয়ার ” আন্দোলনের জন্য বড় বিজয় বলে আখ্যা দিয়েছে প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ সাইট “ম্যাশএবল”।

অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যাটারির বর্জ্য কমিয়ে আনার পাশাপাশি তাদের একচেটিয়া অভ্যাসগুলো বন্ধ করার লক্ষ্যে নতুন এ নীতিমালায় সম্মতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

এ নীতিমালা কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্যভুক্ত দেশগুলোর বেলায় প্রযোজ্য হলেও সারা বিশ্বেই এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ হতে পারে, ইউরোপ ও বিশ্বের কয়েকটি স্হানের জন্য দুইটি ভিন্ন নকশার স্মার্টফোন তৈরির জটিলতা ও খরচের জন্য সম্ভবত মোবাইল ফোন নির্মাতা কোম্পানি যাবে না।

ফলস্বরূপ সারাবিশ্বের স্মার্টফোন ব্যাবহারকারীর জন্যই স্মার্টফোনের নকশা বদলে যেতে পারে। গত ১৪ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী স্মার্টফোনের নকশা পরিবর্তনে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় পেয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

এই আইনে বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের ব্যাটারি অবশ্যই ব্যাবহারকারীর মাধ্যমে অপসারন ও প্রতিস্থাপনযোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ কোনো কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই ব্যাটারি পরিবর্তন করার সহজ উপায় থাকতে হবে।

বর্তমানে স্মার্টফোন এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, গড়ে একটি ব্যাটারি দুই বছর ভালো থাকে। এরপর নষ্ট হয়ে যায়। তারপর ও কোনো কারনে ব্যাটারি নষ্ট হলে ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে যেতে হয়।

এছাড়া কোনো যন্ত্রাংশ বিকল হলে তা ঠিক করতে বিকল্প ব্যাবস্হা না রাখার অভিযোগ ও রয়েছে কোম্পানি গুলোর বিরুদ্ধে। যার কারণে কোনো স্মার্টফোনের ব্যাটারি বা যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে অনেক সময় নতুন ফোন ক্রয় করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।

এই আইন কেবল স্মার্টফোন নয় , বরং ইভি ও ই-বাইকের মতো সব ধরনের পণ্যের ব্যাটারিতে ও প্রযোজ্য। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি “বৃত্তাকার অর্থনীতি” বানানো, যেখানে নষ্ট হয়ে যাওয়া ব্যাটারি বিভিন্ন প্রকার পণ্যে পুনরায় ব্যাবহার করার সুবিধা পাওয়া যায়।

তাছাড়া এই আইনে বিভিন্ন স্মার্টফোন উৎপাদক কোম্পানি ২০২৭ সালের মধ্যে পূনরায় ব্যাবহার করা ব্যাটারি থেকে ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ লিথিয়াম সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যা পরবর্তীতে ২০৩১ সাল নাগাদ ৮০ (আশি) শতাংশে নিয়ে যেতে হবে।

তাছাড়া ঐ নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, উৎপাদকের ব্যাটারির ভিতরে থাকা পূন: ব্যাবহারযোগ্য উপাদানের পরিমাণ, একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে লেভেল করার শর্ত রয়েছে। আর এর ফলে ব্যাবহারকারীরা ০৫ (পাঁচ)  বছরের মধ্যেই নির্দ্বিধায় ব্যাটারি বদলানোর সুযোগ সুবিধা পাবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে,  ম্যাশএবল।

এর আগে ও ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর পাস করা একটি আইনে সকল মোবাইল ফোনে বাধ্যতামূলক ভাবে ‘ইউএসবিসি’ পোর্ট রাখার কথা বলা হয়েছিল। ঐ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে ও বিশ্বজুড়ে একই প্রভাব দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ

পুরুষের তুলনায় স্মার্টফোন ব্যাবহারে নারীরা এগিয়ে 

এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের জন্য কয়েকটি ফ্রি অ্যাপস

মোবাইলের ওয়াইফাই স্পিড বাডাবেন কিভাবে জেনে নিন

স্মার্টফোন যেভাবে ব্যাবহার করলে চোখের ক্ষতি হয় না