মানুষের কাজের ধরন পরিবর্তনে মোবাইল ফোন যেসব ভূমিকা রেখেছে!

ছোট শিশু যখন বড় হতে থাকে তখন তাদের বয়সের সাথে সাথে সব কিছু পরিবর্তন হতে থাকে। মোবাইল ফোন আবিষ্কারের পর থেকে তেমনি ধাপে ধাপে মানুষের কাছে গুরুত্ব পেতে থাকে। আর এই মোবাইল ফোন বর্তমানে মানুষের কাজের ধরন পরিবর্তনে ও প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখছে।

মোবাইল ফোন আবিস্কার করা হয় ১৯৭৩ সালে। কিন্তু এই মোবাইল ফোন মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে ১৯৮৩ সালের দিকে। মোবাইল ফোন ব্যাবহারের পূর্বে মানুষের চালচলন, কথাবার্তা, আচার-আচরণ, রুচি, সংস্কৃতি, ব্যাবসা বানিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, অফিস আদালত, যোগাযোগ, চিকিৎসা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল।

মোবাইল ফোন ব্যাবহারের পর এই সকল ক্ষেত্রে মানুষের কাজের আমূল পরিবর্তন এসেছে। অর্থাৎ এক কথায় শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকল মানুষের ক্ষেত্রে কাজের ধরন পরিবর্তনে মোবাইল ফোন অনেক ভূমিকা রেখে চলেছে।

মোবাইল ফোন যখন ছিল না, তখন মানুষ তার চারপাশে কি হচ্ছে তা জানতো না, এখন মোবাইল ফোন আসাতে পৃথিবী চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। যার ফলে মানুষের যা কিছু প্রয়োজন তা সহজে পেয়ে যাচ্ছে।

এটি হোক তার ভোগ বিলাসের জন্য কিংবা যে কোনো কাজের জন্য।

এইবার চলুন জেনে নেই মানুষের কাজের ধরন পরিবর্তনে মোবাইল ফোন কিভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে।

1. শিক্ষা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর মোবাইল ফোন ব্যাবহারে শিক্ষার ক্ষেত্রে ও কাজের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। শিক্ষকগন অনলাইনে পাঠদান করছে।  মোবাইল ফোন ব্যাবহারের পূর্বে ছাত্র ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে একদিন অনুপস্থিত থাকলে  ঐ দিনের শ্রেণির পাঠদান থেকে বঞ্চিত হতো, আবার ঘরে পড়তে বসে কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে তা সমাধান করতে পারতো না।

মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ফলে শিক্ষকের দেওয়া শ্রেণির পাঠদান ঘরে বসে অনলাইনে শিখছে এবং পড়ার সময় কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে তা মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন থেকে সমাধান করে নিচ্ছে ।

বই না কিনে অনলাইন থেকে বের করে  পড়াশোনা করছে। এছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বেতন পরিশোধ, রেজাল্ট, মার্কশিট ও সনদ উত্তোলন সবকিছু ঘরে বসেই করছে।

মা তার বাচ্চাকে পড়াতে বসে মোবাইল ফোন হাতে দিয়ে দিচ্ছে। আর মোবাইল ফোন থেকে দেখে দেখে বাচ্চারা পড়ালেখা করছে।

2. চিকিৎসা

বর্তমানে মোবাইল ফোনে ঘরে বসে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রোগের চিকিৎসা করা যায়, অনলাইনে গুগল বা ভিডিও থেকে বিভিন্ন ডাক্তারের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে দেওয়া তথ্য গুলো শুনে মানুষ নিজেরাই নিজেদের রোগের চিকিৎসা করতে পারছে।

কোন ওষুধ কোন রোগের জন্য কার্যকর তা মূল্য সহ অনলাইনে দেওয়া থাকে বিধায় মানুষ মোবাইলের কোম ব্রাউজারে গিয়ে সার্চ করে জানতে পারে।

3. ব্যাবসা বানিজ্য

মোবাইলের মাধ্যমে মানুষ অনলাইনে ব্যাবসা বানিজ্য করছে। উৎপাদক বা বিক্রেতা তার পন্য সামগ্রির গুনাগুন, দাম, পন্যের ছবি অনলাইনে দিচ্ছে এবং ক্রেতা তা মোবাইলে দেখে তার চাহিদা ও রুচিসম্মত পন্য ক্রয় করছে। 

খুচরা বিক্রেতা পাইকারী বিক্রেতার কাছে প্রয়োজনীয় মালামালের অর্ডার মোবাইলে দিচ্ছে এবং তার দাম মোবাইলে পরিশোধ করছে। কোন মালের দাম বাড়ছে, কোন মাালের দাম কমছে তা সহজে জানতে পারছে এবং সে অনুযায়ী দোকানদার পন্য দ্রব্য দোকানে মজুত করছে। 

4. চাকুরি

মানুষকে এখন চাকুরি সন্ধানের জন্য পত্রিকা ক্রয় করে বিজ্ঞাপন পড়তে হয় না, মোবাইলে ঘরে বসে অনলাইনে বিজ্ঞাপন পড়ছে।

পূর্বে মানুষ সরাসরি কারখানা, অফিস আদালতে গিয়ে চাকরি করতো, এখন মোবাইল ব্যাবহার করে কারখানা ও অফিস আদালতের কাজ ঘরে বসে করছে। এছাড়া ফিল্যান্সিং, ব্লগিং প্রভৃতি কাজ মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

5. যোগাযোগ

পূর্বে মানুষ যোগাযোগের জন্য যে কাজ পায়ে হেঁটে, কবুতরের মাধ্যমে বা চিঠির সাহায্যে করতো। ঐ একই কাজ করার জন্য মানুষ মোবাইল ব্যাবহারের পর কাজের ধরন পরিবর্তন করে মোবাইলের সাহায্যে মুহূর্তে যোগাযোগ করছে।

এতে সময় ও টাকা দুটোই বাঁচছে এবং নিরাপদে তা অনায়াসে করছে।

6. মায়েদের কাজ

প্রত্যেক মা তার পরিবারের জন্য রান্না করা, ঘর সাজানো থেকে শুরু করে সন্তান লালন পালন করা পর্যন্ত সকল কাজে পরিবর্তন এনেছে। আর এই সব কাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে মোবাইল ফোনের কল্যানে।

মা পরিবারের জন্য রান্না করতে কোন উপাদান কি পরিমাণে লাগবে তা সহজে মোবাইল দিয়ে গুগলে সার্চ করে পায়। এছাড়া বাচ্চাদের পড়ালেখা, খাওয়া, চালচলন, ঘুমানো ইত্যাদি কাজে মায়েরা মোবাইল ব্যাবহার করছে ।

7. দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারি অর্থায়ন

মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ফলে সরকার জনগণের কাছে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বা আইডি কার্ড এবং মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে নাম রেজিষ্ট্রেশন করে সরকারি সাহায্য নির্ভূলভাবে পৌঁছে দিচ্ছে।

8. বীমা

মোবাইল ফোন ব্যাবহারের পূর্বে মানুষ বীমা সম্পর্কে বীমা কর্মী থেকে কিংবা টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভালো মন্দ জানতো এবং বীমার কিস্তি বীমা কর্মীর কাছে দিতো।

মোবাইল ফোনের কল্যানপ মানুষ তা সহজে অনলাইন থেকে জানতে পারে এবং মোবাইলে বীমার কিস্তি পরিশোধ করে সাথে সাথে তা বীমা কোম্পানির কাছে পৌঁছেছে কিনা এসএমএস এর মাধ্যমে জানতে পারছে।

9. বিজ্ঞাপন

পূর্বে বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো রেডিও, টিভিতে। এখন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় রেডিও, টিভি ছাড়া ও অনলাইনে। মানুষ এখন বিজ্ঞাপন দেখছে মোবাইল ফোনে বসে, শুইয়ে কিংবা হেঁটে হেঁটে।

10. কৃষি

কৃষি খাতে যারা কাজ করে তারা বেশির ভাগ নিরক্ষর। তারা জানত না কিভাবে চাষ করতে হবে, প্রযুক্তি কিভাবে ব্যাবহার করতে হবে, কি করলে ফসল উৎপাদন বেশি হবে। তাই কৃষক নিজের মতো করে ফসল চাষ করতো। এতে করে ফসল কম বেশি যা হতো তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতো।

মোবাইল ব্যাবহারের মাধ্যমে নিরক্ষর কৃষকেরা কিভাবে চাষ করতে হবে, কোন প্রযুক্তি কখন কিভাবে ব্যাবহার করতে হবে  অনলাইন থেকে তা জেনে নিতে পারছে। ফলে মোবাইল ফোন ব্যাবহারে মানুষের কৃষি খাতে কাজের ধরন পরিবর্তন করে বাম্পার ফসল উৎপাদন করছে ।

এছাড়াও খেলাধুলা, বিনোদন, সংস্কৃতি ইত্যাদি  ক্ষেত্রে  মোবাইল ব্যাবহার করে মানুষ তার পূর্বের কাজের ধরন ও খেলার ধরন পরিবর্তন করছে। এককথায় মানুষের হাতের মুঠোয় মোবাইল ফোন থাকার কারনে পুরো পৃথিবীর সব কিছু ঘরে বসে অনলাইনে জানতে পারছে।

যার ফলে নতুন কিছু দেখলে তার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং তার পূর্বের ব্যাবহৃত সকল কিছুর ধরন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। আর সেটা হোক খেলাধুলা, শিক্ষা, খাদ্য, কৃষি, চাকরি, চিকিৎসা, বিজ্ঞাপন, লেনদেন, যোগাযোগ, ব্যাবসা বানিজ্য ইত্যাদি।