মোবাইল ফোন রুট করা উচিত? (সুবিধা ও অসুবিধা)

বর্তমান সময়টা ডিজিটাল যুগ। সব কিছুর জন্যই আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া সব কিছুর সাথেই প্রযুক্তি যুক্ত। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে তথ্য প্রযুক্তির এক উৎকর্ষিত রুপ হলো মোবাইল ফোন।

এই ডিজিটাল যুগে আমাদের সবারই একটি করে স্মার্ট মোবাইল ফোন রয়েছে। যা আমরা ব্যাবহার করে থাকি। এই স্মার্টফোন ব্যাবহারকারীদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে রুট (Root) শব্দটা শুনেনি। আমরা এমন অনেকেই আছি যারা রুট শব্দটি শুনেছি ঠিকই কিন্তু এই রুট (Root) জিনিসটা কি সেই সম্পর্কে জানি না।

কখনো কখনো দেখা যায়, মোবাইলে রুট (Root) করার কারণে এটি আগের চেয়ে ধীর গতি সম্পন্ন হয়ে যায়। কিংবা মোবাইলটি অচল হয়ে যায়। আবার অনেকের মোবাইল খুবই গতি সম্পন্ন হয়। যেটা আগের তুলনায় অনেক ভালো সার্ভিস দেয়।

তাই আজকে আমরা জানব রুট (Root) আসলে কি? এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি? মোবাইল রুট (Root) করলে মোবাইল এর উপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে কিনা? চলুন তাহলে মোবাইল রুট (Root) সম্পর্কে জেনে নেই এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেই।

রুট (Root) কি?

প্রথমে আমাদের জানা উচিত, রুট অর্থ হলো মূল বা শিকড়। কিন্তু এন্ড্রয়েড মোবাইলের ক্ষেত্রে রুট হচ্ছে একটি পারমিশন বা অনুমতি। মোবাইল রুট করার অর্থ হলো মোবাইলের সব ক্ষমতা ব্যাবহারকারীর হাতে থাকে।

অর্থাৎ মোবাইল ব্যাবহারকারী ব্যাক্তি এই মোবাইল দিয়ে যা ইচ্ছে করতে পারবে। ব্যাবহারকারী চাইলে তার মোবাইলে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করতে পারবে। নিজের ইচ্ছে মতো মোবাইল ফোন ব্যাবহার করতে পারবে এবং তার ইচ্ছে মতো কাস্টমাইজ করতে পারবে। আর তাই একে রুট বা সুপার ইউজার বলা হয়।

স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন নির্মাণকারীরা মোবাইলে এমন কিছু জিনিস লুকিয়ে রেখেছে যেগুলো না জেনে ব্যাবহার করলে আপনার ফোনটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি কখনো কখনো ফোনটি অকেজো ও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু মোবাইল রুট করলে ঐ জিনিসগুলো আর গোপন থাকে না। সবগুলো গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে যায়।

এর ফলে আপনি চাইলে নিয়ম জেনে সেই গোপন জিনিসগুলো ব্যাবহার করতে পারেন। নিয়ম জেনে ব্যাবহার করলে আপনার ফোনের কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না বরং উপকার হবে।

আর যদি আপনি গোপন সেটিংস গুলো ব্যাবহার করতে না চান তাহলে সেগুলো মোবাইলে থেকে Remove করে দিতে পারেন। সে জন্য আপনার ফোনটি রুট করা থাকতে হবে। ফোন রুট করা থাকলে ফোনের সব গোপন সেটিংস সম্পর্কে জানা যায়।

স্মার্টফোন রুট করা থাকে না যে কারণে

আমরা মোবাইল ফোন ব্যাবহার করি মূলত সাধারণ কিছু বিষয়ের জন্য। যেমন – একে অপরের সাথে যোগাযোগ, বিনোদন, গেমস খেলা, ছবি তোলা, ভিডিও তৈরি করা ইত্যাদি।

কিন্তু এইসব বিষয় ছাড়া ও মোবাইলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও প্রোগ্রাম রয়েছে। যার একটি রিমুভ হয়ে গেলে বা ভূল বশতঃ সেটিংস নষ্ট হয়ে গেলে পুরো মোবাইলটা নষ্ট হয়ে যায়। এই ফাইল গুলোকে রুট ফাইল ও বলা হয়।

মূলত এই ফাইলগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্যই মোবাইল রুট করা থাকে না। তাই আপনি যদি মোবাইল রুট করেন তাহলে সবগুলো ফাইল প্রকাশ হয়ে যাবে। এর মধ্যে কিছু ফাইল আছে যেটা মোবাইল থেকে Remove করলে ও সমস্যা নাই।

কিন্তু কিছু ফাইল আছে যেগুলো একটু ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো ফোনটাই অকেজো হয়ে যায়। যেহেতু মোবাইল রুট করলে মোবাইলের সম্পূর্ণ ক্ষমতা আপনার হাতে চলে আসে তাই আপনাকে ফাইলগুলো ব্যাবহার করা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। আর ভুলবশত কেউ যেন প্রোগ্রাম গুলো ব্যাবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য মোবাইল ফোন রুট করা থাকে না। এবং ফাইল ও প্রোগ্রাম গুলো প্রকাশ্যে থাকে না।

Related: মোবাইল ফোন দ্রুত চার্জ করার ৫টি উপায়।

যে কারণে স্মার্টফোন রুট করবেন

আমরা অনেকেই বিভিন্ন কারণে মোবাইল ফোন রুট করে থাকি। কেউ বা মোবাইলের পারপরম্যান্স বাড়ানোর জন্য, কেউ স্বাধীনভাবে মোবাইল কাস্টমাইজ করার জন্য, কেউ অন্যের মুখে এর সুবিধাগুলো শুনে মোবাইল রুট করে থাকে।

আবার অনেকে আছে যারা মোবাইল ফোনের গতি বাড়ানোর জন্য এবং এর ইন্টারনাল স্টোরেজ ফাঁকা করার জন্য ও মোবাইল রুট করে থাকে।

মোবাইল রুট করার সুবিধা

মোবাইল রুট করার অনেক সুবিধা আছে। যেমন

(১) মোবাইল রুট করলে মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণভাবে আপনার আওতাধীন। আপনি চাইলে যে কোনো ফাইল মুছে নতুন ফাইল Add  করতে পারবেন। 

(২) মোবাইলে থাকা যে কোনো অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ অর্থাৎ যে  অ্যাপগুলো আপনার মোবাইলে কোনো কাজে আসেনা বরং মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ দখল করে সে অ্যাপগুলো রিমুভ করে দিতে পারবেন

মোবাইলে এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আছে যেগুলো মোবাইল থেকে ডিলেট করা যায় না, আবার কোনো কাজে ও আসে না মোবাইল রুট করার পর সেগুলো আপনি সহজে ডিলেট করে দিতে পারবেন।

(৩) বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যাবহার করে মোবাইলের টেম্পোরারি ফাইল গুলো মুছে ফেলতে পারবেন। এই ট্যাম্পোরারি ফাইলগুলো আপনার মোবাইলের গতি কমিয়ে দেয় এবং মোবাইলের উপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে। আপনি যদি মোবাইল রুট করেন তবে সেই ট্যাম্পোরারি ফাইলগুলো মুছে ফেলতে পারবেন।

(৪) রুট করার পর আপনি ইচ্ছে মতো মোবাইল চালাতে পারবেন এবং মোবাইল কাস্টমাইজ করতে পারবেন।

(৫) মোবাইল রুট করার পর আপনি এমন কিছু অ্যাপ পাবেন যেগুলোর ব্যাবহার আপনার মোবাইলকে অধিক সক্রিয় করে তুলবে। যা আপনি কল্পনা করতে পারবেন না।

(৬) মোবাইল রুট করার ফলে মোবাইলের ফাইল ও প্রোগ্রামে কোনো ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে না। ফলে মোবাইলটি দীর্ঘ কাল ভালো থাকে।

(৭) মোবাইল রুট করার পর আপনি চাইলে নিজের ইচ্ছে মতো এতে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যোগ করতে পারেন এবং মোবাইল থেকে অপ্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য গুলো বাদ দিতে পারেন। এতে মোবাইলের স্টোরেজ ফাঁকা থাকবে। মোবাইল অনেক গতিশীল থাকবে।

মোবাইল রুট করার অসুবিধা

মোবাইল রুট করলে যেমন অনেক সুবিধা পাওয়া যায়, তেমনি রুট করার কারণে বেশ কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন:-

(১) মোবাইল ফোন রুট করার কারণে আপনার মোবাইলের ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যাবে। মোবাইলের কোনো সমস্যা দেখা দিলে মোবাইল ফোন নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ তা আর দেখবে না। তাই রুট করার পূর্বে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কিছু ফোন আছে রুট করার পর পূনরায় আবার আনরুট করা যায়। কিন্তু কিছু কিছু ফোন আছে পূনরায় আর আনরুট করা যায় না। তাই রুট করার পূর্বে সাবধান।

(২) ফোন রুট করার সাথে সাথে পুরো ফোনটি আপডেট হতে থাকবে, এই সময় ফোনের ভিতরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। যা ফোনের সকল কার্যক্ষমতা বন্ধ করে দিতে পারে।

(৩) মোবাইল রুট করার পর যেহেতু মোবাইলের সকল গোপন সেটিংস প্রকাশ হয়ে যায় তাই ভুলবশত এসব সেটিংস এর ব্যাবহার না জেনে উল্টাপাল্টা সেটিংস ব্যাবহার করলে মোবাইলটি অকেজো বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সর্বোপরি মোবাইল রুট করলে যেমন মোবাইল ব্যাবহারকারীর উপকার হতে পারে, তেমনি  মোবাইল রুট করলে মোবাইলের ক্ষতি ও হতে পারে। প্রতিটি জিনিসের ভালো এবং খারাপ দিক আছে। তাই মোবাইল রুটের ও ভালো খারাপ দিক আছে।

আরও পড়ুনঃ

পুরাতন মোবাইল কেনার সময় এই ১০টি ভূল ভূলে ও করবেন না 

ভূলে ও এই ৭ ধরনের দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না 

এখনি এই ৯টি অ্যাপস আপনার মোবাইল থেকে ডিলিট করুন 

মোবাইল ফোন দ্রুত চার্জ করার ৫টি উপায় 

 

Leave a Comment