মোবাইলে 5G এর সুবিধা ও অসুবিধা

প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বর্তমান বিশ্বের সব কিছুই দ্রুত এবং সহজে করা সম্ভব হচ্ছে। তেমনি মোবাইল ফোনে উন্নত প্রযুক্তির ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক ব্যাবহারের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা চলছে। যেমন – প্রথমে দিকে মোবাইল ফোনে 1G ব্যাবহার করা হতো। কালের বিবর্তনে 2G, 3G, 4G এবং বর্তমানে 5G ও ব্যাবহার করা শুরু হয়েছে। 

“মোবাইলে 5G ব্যাবহারের সুবিধা যেমন আছে, তেমনি মোবাইলে 5G ব্যাবহারের অসুবিধা ও আছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জেনে নিব মোবাইলে 5G এর সুবিধা ও অসুবিধা। ”

প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে মোবাইলের যেমন আধুনিকায়ন হচ্ছে, তেমনি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। মানুষ প্রথমে বাটন মোবাইল ব্যাবহার করে এবং পরে স্মার্ট মোবাইল ফোন সহ বিভিন্ন ধরনের ফোন ব্যাবহার করতে থাকে।

এইবার জেনে নেই 5G কি?

G মানে জেনারেশন। 5G মানে পঞ্চম জেনারেশন। মোবাইল ফোনে পঞ্চম প্রজন্মের ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক সিস্টেম, যাকে সংক্ষেপে 5G বলে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩ জিপিপি রিলিজ ১৫ এর মাধ্যমে ৫জি এর সজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।

আবার অনেকে আইটিইউ এর আইএমটি ২০২০ সজ্ঞাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। মিডব্যান্ড ফিকুয়েন্সি 4G এর অনুরূপ। ব্যান্ডউইথ ফ্রিকোয়েন্সি প্রতি সেকেন্ড ৪৯০ মেগাবাইট

৫জি (পঞ্চম প্রজন্মের ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক) । 5G এর প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে মিলিমিটার তরঙ্গ ব্যান্ড (যা ২৬, ৩৪, ৩৮ এবং ৬০ গিগাহার্টজ)। 5G এর গতি ১০০০ মেগাবিট থেকে ৩.৫ গিগাবিট পর্যন্ত হতে পারে।

৫জি আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে ২০১৭ সাল থেকে। আর ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়া শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে দর্শকদের জন্য ৫জি প্রনয়ণ করে দেখিয়েছেন।

মোবাইলে 5G ব্যাবহারের সুবিধা:

5G একটি দ্রুত গতির নেটওয়ার্ক। এর সুবিধা হলো-

1. 5G এর মাধ্যমে দ্রুত গতিতে ইন্টারনেট কানেকশন পাওয়া যাবে। অনেক সময় একই এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার কারীর সংখ্যা বেশি হলে ইন্টারনেট কানেকশন ঠিক মতো পাওয়া যায় না, কিন্তু 5G চালু হলে ইন্টারনেট কানেকশনে কোনো সমস্যা হবে না।

2. 5G এর মাধ্যমে দ্রুত গতিতে সারাবিশ্বে যোগাযোগ করা যাবে।

3. দুই তিন সেকেন্ডের মধ্যে যে কোনো দুই থেকে তিন ঘন্টার ছবি ডাউনলোড করা যাবে।

4. যে কোন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন গেইম অনায়াসে খেলা যাবে।

5. ইউটিউবে ১০-২০ সেকেন্ড স্কিপ করলে ও কোনো সমস্যা হবে না।

6. 5G নেটওয়ার্ক দ্রুত গতির হওয়ায় যে কোনো গাড়ি স্হানীয় নেটওয়ার্ক এবং সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করে নির্ভূলভাবে চালাতে পারবে।

7. মোবাইলে 5G ব্যাবহারে শিল্প কারখানায় বিশাল পরিবর্তন আসতে পারে। তাছাড়া রোবট, ডোন, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও চালানো যেতে পারে সঠিকভাবে।

8. যে কোনো ভিডিও ৪জির তুলনায় ১০ গুণ দ্রুত আপলোড করা যাবে।

9. মোবাইলে 5G ব্যাবহারের ফলে ভিডিও গুলো পূর্বের তুলনায় অনেক সুন্দর দেখা যাবে।

10. চিকিৎসা ক্ষেত্রে ও আসতে পারে বিরাট সফলতা।

এছাড়াও সময়ের সাথে সাথে 5G এর গুরুত্ব ও সুবিধা আরো বেড়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

মোবাইলে 5G ব্যাবহারের অসুবিধা:

যার সুবিধা ও উপকারিতা আছে তার অসুবিধা ও অপকারিতা আছে। তেমনি মোবাইলে 5G এর ব্যাবহারের  সুবিধার সাথে অসুবিধা ও আছে। নিচে মোবাইলে 5G এর ব্যাবহারের অসুবিধা গুলো দেওয়া হলো-

1. মোবাইলে 5G ব্যাবহার করলে বেশী গতি বা স্পীড পাওয়া যাবে ঠিকই, কিন্তু টাওয়ার ও ফোনের মাঝে বিল্ডিং বাড়ি বা পাহাড় থাকলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে না।

2. 5G ব্যাবহারে মোবাইল দ্রুত গরম হয়ে যাবে।

3. মোবাইলের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

4. মোবাইলের এমবি দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

5. মোবাইলে 5G ব্যাবহারের ফলে ব্যাবহারকারীর ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

6. ঝড় বৃষ্টির সময় মোবাইলে 5G নেটওয়ার্ক কম পাওয়া যাবে।

এছাড়াও 5G এর টাওয়ারের আশেপাশে থাকা সকল প্রানীর মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

বাংলাদেশে এখনও 5G চালু হয়নি। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো 5G ইন্টারনেট ব্যাবহারে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ বড় মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানি গুলো বানিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করছে।

প্রতিটি জেনারেশন দ্বারা কি বুঝায়?

1G দ্বারা বুঝায় প্রথম জেনারেশন, 2G দ্বারা বুঝায় দ্বিতীয় জেনারেশন,  3G দ্বারা বুঝায় তৃতীয় জেনারেশন, 4G দ্বারা বুঝায় চতুর্থ জেনারেশন এবং 5G দ্বার বুঝায় পঞ্চম জেনারেশন। ভবিষ্যতে হয়তো আরও জেনারেশন আসতে পারে। যেমন – 6G,7G ইত্যাদি।

বিভিন্ন মোবাইল ফোন জেনারেশনের বিস্তারিত আলোচনা।

1) প্রথম জেনারেশন (1st Generation -1G)

1G মানে প্রথম প্রজন্ম। সেলুলার নেটওয়ার্ক। ব্যাপ্তিকাল ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০। প্রথম শুরু হয় USA. ১৯৭৯ সালে জাপানের এনটিটি বানিজ্যিক ভাবে প্রথম অটোমেটেড সেলুলার নেটওয়ার্ক চালু করে এবং এর মাধ্যমে 1G এর সূচনা হয়। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এই প্রজন্মের সিস্টেম চলতে থাকে।

বাংলাদেশে মোবাইলে 1G শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। সিগন্যাল সিস্টেম অ্যানালগ। ডেটা ট্রান্সফার রেট 2.4 kps – 14.4 kps. অপারেটিং  ফ্রিকোয়েন্সী 800 MHz. ফ্রিকুয়েন্সির বাহক 30 KHZ. মূলত 1G এর মাধ্যমে একজনের সাথে অন্য জনের কথা আদান প্রদান হতো। 1G এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যাবহার করা যেতো না।

2) দ্বিতীয় প্রজন্ম (2nd Generation -2G)

মোবাইল প্রযুক্তির উন্নতি হয়ে মানুষের কাছে আসে কম ওজনের মোবাইল ফোন । আর সেই সাথে মোবাইলে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি উন্নতি হয়ে আসে 1G এর ডিজিটালরূপ। 2G -দ্বিতীয় প্রজন্ম। ডিজিটাল নেটওয়ার্ক। ১৯৯০ সালে GSM স্ট্যান্ডার্ড ব্যাবহার করে 2G যাত্রা শুরু হয়।

2G এর কার্যকাল শুরু হয় ১৯৯১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। 2G প্রথম শুরু হয় ফিনল্যান্ডে। বাংলাদেশে মোবাইলে 2G শুর হয় ১৯৯৬ সাল থেকে। সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটাল। ডেটা ট্রান্সফার রেট 14.4 kps. ব্যান্ডউইথ 25 MHz.

অপারেটিং ফ্রিকোয়েন্সী GHM:900MHz, 1800 MHz CDMA:800MHz. ফ্রিকুয়েন্সির বাহক 200KHz. আর 2G এর স্পীড 1G এর স্পীড থেকে অনেক গুণ বেশি। আর এর ফলে মোবাইলে কথা, MMS ও SMS সেবা শুরু হয়। 2G এর ফলে ইন্টারনেটে সেবা চালু হয়।

3) তৃতীয় প্রজন্ম (3rd Generation -3G)

3G হাইস্পিড আইপি ডেটা নেটওয়ার্ক। 3G শুরু হয় ২০০১ সালে এবং এর কার্যকাল ধরা হয় ২০০১- ২০০৮ সাল। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে 3G শুরু হয় অক্টোবর ২০১২ সালে।

জাপানে এনটিটি ডোকোমো WCDMA প্রযুক্তি ব্যাবহার করে 3G নেটওয়ার্ক চালু করে। 3G প্রজন্মটি ভাগ হয়ে 3.5G, 3G+ বা turbo 3G নামে পরিচিত পায়।

3G এর সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটাল। ডেটা ট্রান্সফার রেট 3.1 Mbps. ব্রান্ডউইথ 25 MHz. অপারেটিং ফ্রিকোয়েন্সী 2100 MHz. ফিকুয়েন্সির বাহক 5 MHz. ইন্টারনেটে ব্রডবেন্ট। 3G এর ফলে মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ সবসময় থাকে। তাই ব্রাউজ, ইমেইল, তথ্য ডাউনলোড, ভিডিও কনফারেসিং করা যায়।

4) চতুর্থ প্রজন্ম (4th Generation – 4G)

4G শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। এর ব্যাপ্তিকাল ধরা হয় ২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত। 4G প্রথম শুরু হয় South Korea. সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটাল।

4G প্রযুক্তি LTE, WiMAX. ডেটা ট্রান্সফার রেট 100 Mbps. ব্রান্ড উইথ 100MHz. অপারেটিং ফিকোয়েন্সি 850 MHz, 1800 MH.  ফ্রিকুয়েন্সির বাহক 15 MHz. 4G এর ইন্টারনেট আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড।

4G এর মাধ্যমে মোবাইলে টিভি চালানো যায় এবং পূর্বের প্রজন্মের চেয়ে দ্রুত গতিতে ডেটা, ভয়েস এবং মাল্টিমিডিয়া আদান প্রদান করা যায়।  ৪জি এর গতি 3G এর গতির চেয়ে ৫০ গুণ বেশি। প্রতিটি জেনারেশনের স্পীড পূর্বের জেনারেশন থেকে অনেক গুণ বেশি।

প্রতিটি জেনারেশন এর স্পীড বা গতি।

প্রতিটি জেনারেশনের স্পীড পূর্বের জেনারেশন থেকে অনেক গুণ বেশি। 1G ও 2G এর গতি  ২০০ কিলোবাইট এর নীচে। 3G এর গতি ২০০ কিলোবাইট থেকে ১ বা ২ মেঘাবিট।

4G এর গতি ১০০০ মেগাবিট। 5G এর গতি ১০০০ মেঘাবিট থেকে ১.৯ গিগাবিট পর্যন্ত হতে পারে। 5G এর গড় গতি হতে পারে 100 mbps।  এখনো বাংলাদেশে 5G চালু হয়নি। তবে আশা করা যায় ২০২৩ সালের মধ্যে মোবাইলে 5G চালু হবে।

আরও পড়ুনঃ

মোবাইল হ্যাং হলে আপনার করনীয়

3G মোবাইলকে 4G করার নিয়ম 

মোবাইল আসক্তির কালো দিক

কিভাবে প্রথম মোবাইল ফোনের সূচনা হয়েছিল

ভোটার আইডি কার্ড আসল নাকি নকল তা মোবাইল দিয়ে যাচাই করার নিয়ম 

 

Leave a Comment