মোবাইল দিয়ে খতিয়ান বের করার নিয়ম।

খতিয়ান হলো জমির মাঠ জরিপ। সরকারী আমিন বা সরকার কর্তৃক নিয়োজিত লোকজন মাঠ পর্যায়ে গিয়ে মেপে ভোগ দখলকারীর নামে রেকর্ড করে দেওয়ার নাম হলো খতিয়ান।

খতিয়ানে জমির মালিকানা, জমির দাগ নং, জমির পরিমাণ, মৌজা নং সব কিছু সংক্ষেপে দেওয়া থাকে। জমির যেমন দলিল থাকে, তেমনি জমির খতিয়ান ও থাকে। আর এই খতিয়ান প্রয়োজন হলে মোবাইল দিয়ে সহজে বের করা যায়। খতিয়ান কয়েক ধরনের হয়। যেমন –

1. সিএস। 2. আরএস । 3. এসএ। 4. বিএস। 5. পেটি।




মোবাইল দিয়ে খতিয়ান বের করার নিয়ম।

মোবাইল দিয়ে খতিয়ান বের করতে হলে,

প্রথমে আপনাকে  chrome  ব্রাউজারের সার্চ অপশনে গিয়ে https:/www.eporcha.gov.bd/khatian লিখে সার্চ করতে হবে। সার্চ করার পর আপনার সামনে একটি পেজ আসবে।

এরপর এখানে সর্ব প্রথম বিভাগ সিলেক্ট করতে হবে, তারপর জেলা, তারপর উপজেলা, তারপর মৌজা বাচাই করে নিতে হবে। এখানে আপনার জমির জরিপের ধরন অনুযায়ী যেমন – বিএস, আরএস, বিআরএস, সিএস, এসএ, পেটি ইত্যাদির ভিতর যেটি আপনার প্রয়োজন সেটি সিলেক্ট করে নিতে হবে। 




এখন আপনার জমির খতিয়ান যাচাই করার জন্য ৪টি অপশন পাবেন। সেই চারটি অপশন হচ্ছে –  1. পিতা মাতার নাম অনুযায়ী, 2. মালিকানার নাম অনুযায়ী, 3. দাগ নম্বর অনুযায়ী, 4. খতিয়ান নম্বর অনুযায়ী। উল্লেখিত চারটি অপশনের মধ্যে আপনার কাছে যে অপশনটি রয়েছে বা যে অপশনের তথ্য রয়েছে সে অপশনের বাম দিকে থাকা গোল ঘরে ক্লিক করবেন।

গোল ঘরে ক্লিক করার পর তার নিচে একটি ছোট বক্স আসবে। এখন সে বক্সটি পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি মালিকানা নাম সিলক্ট করে থাকেন, তাহলে মালিকের নাম বক্সে লিখবেন। দাগ নম্বর সিলেক্ট করে থাকলে, বাক্সে দাগ নম্বর লিখবেন। খতিয়ান নম্বর সিলেক্ট করে থাকলে, বাক্সে খতিয়ান নম্বর লিখবেন। পিতা/ স্বামীর নাম সিলেক্ট করে থাকলে, বাক্সে পিতা / স্বামীর নাম লিখবেন।

তারপর আপনাকে নিচে দুটি সংখ্যা যোগ করতে বলা হবে। আপনি সেই সংখ্যা দুটি যোগ করে যোগফল নিচের বাক্সে লিখবেন। তারপর “খুজুন” অপশনে গিয়ে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর আপনার খতিয়ানটি মোবাইলের মনিটরে বা স্কিনে দেখা যাবে।

যদি আপনি আপনার খতিয়ান বের করতে চান তাহলে স্কিনে থাকা খতিয়ানটি স্কিন শর্ট দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখবেন এবং কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে প্রিন্ট করে নিবেন।


Related Question

প্রশ্ন: খতিয়ান কি কাজে লাগে?

উত্তর: খতিয়ান হলো জমির মাঠ জরিপ। খতিয়ানে একটি নম্বর থাকে, যাকে খতিয়ান নম্বর বলে , খতিয়ানে জমির মালিকানা, জমির মৌজা নম্বর, জমির পুরাতন দাগ নম্বর ও সাথে নতুন দাগ নম্বর দেওয়া থাকে।

খতিয়ান বিভিন্ন কাজে লাগে, যেমন – জমি খারিজ করতে, জমি বিক্রয় করতে, জমি ক্রয় করতে। এছাড়াও খতিয়ান আরো অনেক কাজে লাগে। দলিল থাকা সত্ত্বেও খতিয়ান ছাড়া জমির মালিকানা নিয়ে অনেক জটিলতায় পড়তে হয়।

জমির খতিয়ান যদি অন্য কোনো লোকের নামে থাকে তাহলে খতিয়ান যার নামে, সে জমির মালিকানা দাবি করতে পারে। এছাড়া জমির খতিয়ান না থাকলে জমির দলিল থাকা সত্ত্বেও জমির মালিকানা হুমকির সম্মুখীন হয়ে যায়।

কাজেই প্রত্যেক লোককে জমির খতিয়ান না থাকলে জমির খতিয়ান যে কোনো ভাবে বা যে কোনো উপায়ে করে নিতে হবে।

প্রশ্ন: জমির খতিয়ান না থাকলে কিভাবে জমির খতিয়ান করতে হবে?

উত্তর: জমির খতিয়ান যদি না থাকে তাহলে আপনাকে কালেক্টর বা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী অফিসার এর পরামর্শ এবং উপজেলা ভূমি অফিসে  বা এসিল্যান্ড অফিসে গিয়ে ভূমি অফিসারের সাথে আলোচনা করে নিতে হবে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী অফিসার এবং উপজেলা ভূমি অফিসার বা এসিল্যান্ড যেভাবে বলবেন সেভাবে কাজ করে খতিয়ান করে নিতে হবে।

প্রশ্ন: খতিয়ানে ভূল থাকলে কিভাবে সংশোধন করা যায়?

উত্তর: খতিয়ানে অনেক রকমের ভূল থাকে। যেমন – নামের ভূল থাকে, দাগ নম্বর ভূল থাকে, জমির পরিমাণ বেশি বা কম থাকে, একজনের জায়গা অন্য জনের খতিয়ানে উঠে ইত্যাদি।

এই সকল ভূলের জন্য আপনাক The State Acquisition and Tenancy Act,  ১৯৫০ এর ৪৩ ধারা অনুযায়ী ও প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ এর বিধিমালা ২৩ এর উপবিধি (৩) অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে প্রকাশ হওয়া রেকর্ডের করনিক ভুলগুলো (clerical mistake) সংশ্লিষ্ট এলাকার বা উপজেলার রাজস্ব কর্মকর্তা যিনি বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি কর্মকর্তা ) বা এসি ল্যান্ড হিসেবে কাজ করেন তিনিই সংশোধন করে দিতে পারবেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি কর্মকর্তা) আবেদন কারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বা প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ১৯৫৫ এর ২২ বিধির উপবিধি (১) অনুযায়ী খতিয়ানে থাকা দৃষ্ট করণিক ভুল সংশোধনের জন্য আইডিকার্ড, পূর্ববর্তী জরিপের কাগজপত্র, প্রাথমিক খাজনা বিবরণী, কালেক্টরের দপ্তরে সংরক্ষিত খতিয়ানের কপি, দলিল, বায়া দলিল এবং ২ নং রেজিস্ট্রার আলোচনা ও পর্যালোচনা ক্রমে এবং তিনি যেভাবে খুশি  খোজ খবর ও অনুসন্ধান করে এবং বিচার বিশ্লেষন করে সকল করণিক ভুল সংশোধনের নির্দেশ দেবেন।

ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা বা কালেক্টর এর কাছে সংরক্ষিত খতিয়ান এবং ২ নম্বর রেজিস্ট্রার অনুযায়ী সংশোধন করার নির্দেশ প্রদান করে সংশোধনলিপির কপি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রদান করবেন।