মোবাইল ফোনের উপকারীতা

মোবাইল ফোন আবিষ্কার করেন মার্টিন কুপার। আর এটি ব্যাবহার করা হয় যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। কিন্তুু বর্তমানে  প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে মোবাইল ফোন  মানুষের প্রতিটি কাজের সাথে  ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে  পড়েছে।

মোবাইল ফোন আবিষ্কারক মার্টিন কুপার হয়তো ভাবতে ও পারেননি মোবাইল ফোনের উপকারীতা যোগাযোগ ছাড়াও একদিন মানুষের জীবনে এইভাবে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে পড়বে।

মোবাইল ফোনের উপকারীতা হয়তো বলেও শেষ করা যাবে নাহ।  আজকের দিনে মানুষ যেই দিকে যায় মোবাইল ফোন সাথে নিয়ে যায়। কারণ মোবাইল ফোন আকারে ছোট হওয়ায় তা হাতে বা পকেটে রাখতে সমস্যা হয় না।

সময়, তারিখ ও কোনো স্থানের লোকেশন বুঝার জন্য মানুষ এখন  মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে মানুষ মোবাইলে সময়, তারিখ ও লোকেশন দেখতে ফেলেও পূর্বে মানুষগন সময়, তারিখ ও লোকেশন দেখার জন্য ঘড়ি ও ক্যাম্পাস  ব্যাবহার করতো। তারা হয়তোবা কখনো কল্পনাও করে নি যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এতো কিছু করা যাবে।

বর্তমানে মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয় বরং খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলা, ব্যবসা-বানিজ্য,বিনোদন, সংস্কৃতি আদান-প্রদান,  শপিং ইত্যাদি প্রায় সবকিছুই এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করে থাকে।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানব মোবাইল ফোনের উপকারীতা সম্পর্কে। 

মোবাইল ফোনের উপকারীতা বলে শেষ করা যায় না।

কিভাবে মোবাইল ফোন মানুষের উপকার করে নিচে দেওয়া হলো –

মোবাইল ফোনের উপকারীতা

মোবাইল ফোন আবিষ্কারের প্রথম পর্যায়ে শুধু একজনের সাথে আরেক জন যোগাযোগ করতে পারতো।

আর এখন মোবাইল ফোন দিয়ে পড়াশোনা, খেলাধুলা, ব্যাংকি কার্যক্রম সহ বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম চলে।

1. যোগাযোগের মাধ্যম

মোবাইল ফোন আবিষ্কারের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশাল পরিবর্তন এসেছে। মানুষ ঘরে বসে দেশ বিদেশের সকল মানুষের সাথে কথা বলার পাশাপাশি একে অপরকে সরাসরি প্রত্যাক্ষ করতে পারে।

প্রয়োজনে এসএমএস পাঠিয়ে তথ্য আদান প্রদান করে। এছাড়াও টেলিমেডিশন প্রক্রিয়া যেকোনো ধরনের সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

2. শিক্ষার ক্ষেত্রে

শিক্ষার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারীতা হয়তো বলেও শেষ করা যাবে নাহ।

কোভিড-১৯ এর সময় পৃথিবীতে যখন মানুষ ঘরে বন্দি হয়ে যায়, তখন  মোবাইল ফোনে অনলাইনের মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু হয়।

তখন শিক্ষকগন অনলাইনে ঘরে বসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতো। আর ছাত্র/ ছাত্রীরা মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে শিক্ষদের পাঠদান শুনতো ও পড়তো।

তাছাড়া বিভিন্ন দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও করে প্রতিনিয়ত অনলাইনে আপলোড করা হচ্ছে, যা সহজে যে কোনো ছাত্র ছাত্রী মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছে।

যারা টাকার অভাবে বই কিনতে পারছে না, তারা অনলাইনে  থেকে সহজেই বইগুলো  ডাউনলোড করে পড়তে পারছে।

ছোট বাচ্চাদের অ, আ, ক, খ শিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিডিও অনলাইনে পাওয়া যায়। এগুলো মোবাইলে ডাউনলোড করে শিশুদের সামনে চালিয়ে দিলে শিশুরা দেখছে, শুনছে ও নিজেরা সাথে সাথে পড়ছে ও শিখছে। এতে করে শিশুদের মেধার বিকাশ ঘটবে।

তাছাড়া বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীরা অনুপস্থিত থাকলে মোবাইলে ফোন দিয়ে ঐ দিনের পড়া শিক্ষকদের কাছ বা সহপাঠীদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারছে।

3. খেলাধুলা দেখা ও শিখা

আগের দিনে খেলাধুলা দেখতে হলে খেলার মাঠে গিয়ে, স্টুডিওতে গিয়ে কিংবা টিভির সামনে বসে খেলা দেখতে হতো। কিন্তু বর্তমানে মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে, হেঁটে হেঁটে, কিংবা যেখানে ইচ্ছা সেখানে খেলা দেখা যায়। চাইলে আপনি টয়লেটে বসেও খেলা দেখতে পারবেন।

ছাড়াও বিভিন্ন খেলাধুলা কিভাবে খেলতে হয় তার নিয়ম কানুন মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন থেকে শিখা যায়। 

4. বিনোদনের মাধ্যম

মোবাইল ফোন এখন বিনোদনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে । বিনোদনের সেরা মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ফোনের কোনো জুড়ি নেই।

মানুষ একটু অবসর পেলেই বা বেকার সময় কাটাতে মোবাইল নিয়ে বসে যায়। এ সময় গান, বাজনা, নাটক, ছবি, ইত্যাদি যার যেটা দেখতে ভালো লাগে তা দেখে সময় কাটায়। এর ফলে অবসর সময় কেটে যায়।

মন প্রফুল্ল হয়, মনের অশান্তি দূর হয়। মন আনন্দে ভরে যায়। আবার কেহ মোবাইলে সেলফি তোলে, গান গায় ও নাচ করে মোবাইলে ভিডিও করে এবং এগুলো  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে। আবার অনেকে মোবাইলে গেমস খেলে সময় কাটায়

5. সংস্কৃতির আদান-প্রদান

বর্তমানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি বিভিন্ন দেশের সাথে আদান প্রদান হচ্ছে।

মোবাইলে বিভিন্ন দেশের মানুষের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন জাতি ধর্মের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নিংগোষ্ঠির অনুষ্ঠান, চাল চলন, কথাবার্তা, পোশাক পরিচ্ছেদ, আচার আচরণ, খাওয়া দাওয়া, শিক্ষা ইত্যাদি দেখে থাকে।

এতে করে পৃথিবীর যে কোনো দেশের মানুষ অন্যদের সংস্কৃতি শিখতে পারে ও জানতে পারে। পৃথিবীর এক প্রান্তের সংস্কৃতি অন্য প্রান্তে আদান-প্রদান হয়ে থাকে এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুব সহজে।

6. ব্যাবসা বানিজ্য

বর্তমানে ব্যাবসা বানিজ্য অনলাইন ভিত্তিক হয়ে পড়েছে। ফলে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে এবং বিপুল হারে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে

মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে মানুষ এখন যে কোনো পন্য দ্রব্য ক্রয় করে, আবার বিক্রয় ও করে। যেমন- জামা কাপড়, কাঁচামাল, মুদি দোকানের পন্য সামগ্রি, ইলেকট্রনিকস পন্য, গাড়ি ইত্যাদি।

ক্রেতা বা ভোক্তা তার প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য মোবাইলে যেভাবে অর্ডার করে, তেমনি খুচরা বিক্রেতা ও তাদের প্রয়োজনীয় পন্যসামগ্রি মোবাইলে পাইকারি বিক্রেতার কাছে কিংবা পাইকারি বিক্রেতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্রয়ের জন্য অর্ডার করে থাকে। 

7. ছবি এবং ভিডিও

মােবাইলে খুব সহজে যে কোনো স্থানে, যে কোনো অবস্থায়, যে কোনো সময়ে যে কোনো কিছুর ছবি তোলা যায় এবং সংরক্ষণ করা যায়।

আবার যে কোনো অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, সভাসমাবেশ, ঘটনা প্রবাহ, খাওয়া দাওয়া, আনন্দ উৎসব ইত্যাদির ভিডিও খুব সহজে মোবাইল দিয়ে করা যায়।

8. লেনদেন ও মোবাইল ব্যাংকিং

অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারীতা অনেক। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে মুহূর্তে টাকা লেনদেন করা যায়। এতে টাকা লেনদেনের ঝুঁকি ও কম।

মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে যেকোনো ব্যাংকের সাথে লেনদেন করা যায়। যার কারণে যাতায়াতের সমস্যা দূর হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং এর কারণে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল মোবাইলের মাধ্যমে পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।

9. মোবাইলে ইনকাম করা

বর্তমান যুগ ইন্টারনেট যুগ। এই যুগে সবকিছুই অনলাইন হয়ে যাওয়ায় মানুষ এখন অনলাইনে তাদের কর্মসংস্থান তৈরী করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

টিকটক,  ইউটিউব, ফেসবুকে নাটক, ছবি, বিভিন্ন ধরনের ভিডিও, গান ইত্যাদি আপলোড করে সেখান থেকে মোবাইলে ইনকাম করছে। এছাড়াও আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং, ব্লগিং ইত্যাদি এর মাধ্যমে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় বেকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে।

10. বিভিন্ন তথ্য ও খবর জানা

আগেরকার দিনে খবরের কাগজ পড়ে বিশ্বের মধ্যে সংগঠিত সকল খবর, খেলাধুলা, বিজ্ঞাপন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ব্যাবসা বানিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, বিনোদনসহ সকল কিছু জানতো।

কিন্তু বর্তমানে মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে সকল ধরনের খবরাখবর ও তথ্য জানা যায়। মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডুকলেই হাজারো খবর চোখের সামনে ভাসতে থাকে। যা কিছুকাল আগেও শুধুমাত্র খবরের কাগজ ছিলো।

১১. বাস ও ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ 

কিছুবছর আগেও মানুষ বাস ও ট্রেনের টিকিট বুকিং করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতো।

কিন্তু প্রযুক্তির কল্যানে বর্তমানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহজেই ঘরে বসেই বাস ও ট্রেনের টিকিট বুকিং করা যাচ্ছে। এতে করে মানুষের সময় সাশ্রয় হয়। সেই সাথে কম পরিশ্রমও হয়।

উপরে উল্লেখিত সুবিধা ছাড়াও মোবাইল ফোনের উপকারীতা আরও আছে।  যেমন – ঘডির পরিবর্তে সময়  তারিখ, দিন, মাস দেখার জন্য মোবাইল ফোন, টস লাইটের পরিবর্তে মোবাইল ফোন, মনোরঞ্জন এর জন্য মোবাইল ফোন, রিমোটের পরিবর্তে মোবাইল ফোন, টিভির বদলে মোবাইল ফোন ইত্যাদি কাজে ব্যাবহার করা হয়।

কম্পিউটারের বিকল্প হিসাবে মোবাইল ফোন মিনি কম্পিউটার হিসাবে ও ব্যাবহার করা হয়। মোবাইল ফোনে কি বোর্ড দেওয়া আছে। আর এই কি বোর্ড দিয়ে বাংলা, ইংরেজিসহ সব কিছু টাইপ করা যায়।

এককথায় বলা যায় মানুষের জীবনে মোবাইল ফোন ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে আছে এবং মোবাইল ফোনের উপকারীতা অপরিসীম। বর্তমানে মোবাইল ফোন বিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব আবিষ্কার।