মোবাইল ফোন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় কেন? জেনে নিন!

একবিংশ শতাব্দীর অত্যান্ত জনপ্রিয় একটি ডিভাইস হলো মোবাইল ফোন। এমন কোনো ব্যাক্তি নেই যে কিনা মোবাইল ফোন সম্পর্কে অবগত নয়।

পৃথীবির প্রায় ৪ ভাগের ৩ ভাগ মানুষের জীবন এই মোবাইল ফোনের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত।

মোবাইলের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের কাজই কম বেশি করা যায়। যেমন, ভিডিও দেখা, গান শুনা,যোগাযোগ, খেলাধুলা, ব্যায়ম, ব্যবসা বানিজ্য, শপিং করা, খাবার অর্ডার, টাকা আর্নিং ইত্যাদি।

এই সবগুলো কাজই মোবাইলের দ্বারা করা হয়ে থাকে। এমনকি মানুষ তাদের দৈনন্দিন এর ব্যাস্ততা শেষে অবসর সময় গুলো কাটানোর জন্য এবং বিনোদনের সেরা মাধ্যম হিসেবেও এই মোবাইল ফোনই ব্যবহার করে।

আমরা সকলেই চাই আমাদের ফোনটা সবসময় ভালো থাকুক অর্থাৎ দীর্ঘ মেয়াদি হোক। কিন্তুু দূর্ভাগ্যবশত আমাদের ফোনটি আমাদের কাঙ্খিত আশার আগেই নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ার ফলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

আবার কিছু ফোন পুরোপুরি নষ্ট না হলেও নষ্ট হওয়ার মতোই  থাকে।

যেমন, হঠাৎ করে মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়, স্পিকার নষ্ট হয়ে যায়, ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়, স্কিন ফেটে যায় আরও নানা ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে।

তবে আমাদের আজকের আর্টিকেলের আলোচনায় থাকবে, কেন হঠাৎ করে চলমান মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়?

তাই চলুন জেনে নেই, হঠাৎ মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার কারন!

1. ফোন মেমোরি ফুল হয়ে গেলে

আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা কারনে অকারণে সারাদিনই মোবাইলে গান, অডিও – ভিডিও, ফটো, অ্যাপস কিংবা নানা ধরনের ছবি ও ভিডিও মেক করে ফোন মেমোরি ফুল করে রাখে ।

এতে করে মোবাইলের উপর একধরনের চাপ পড়ে এবং পুরো মোবাইল জ্যাম থাকার কারনে এটি অধিক লোড না নিতে পেরে হঠাৎ করে চলমান অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায়।

এই হঠাৎ করে মোবাইল বন্ধ হওয়ার ফলে আমাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

যেমন,  অনেকই হয়তোবা মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নোট করতেছেন। কিন্তুু হঠাৎ করে ফোন বন্ধ হওয়ার কারনে আপনার সেই নোট গুলো হারিয়ে যাবে।

অনেকেই আবার কারো সাথে অনলাইনে গেম খেলার সময় মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়, এতে করে পুরো খেলাটাই বাতিল হয়ে যায়।

কখনো কখনো ভিডিও দেখা, ইমুতে বা হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার সময়েও এমন সমস্যা প্রেস করতে হয়।

তাই মোবাইলের গতিশীলতা বজায় রাখতে অর্থাৎ মোবাইল বন্ধ হওয়া থেকে মুক্তি পেতে অবশ্যই ফোন মেমোরি ক্লিন রাখবেন।

2. ব্যাটারি দুর্বল হলে বা পুরনো হয়ে গেলে

সাধারণত মোবাইল কিনার পর মোবাইলসহ ঔ মোবাইলের ব্যাটারি যতটা ভালো ব্যাকআপ দেয় পুরনো হলে আর তেমন ভালো ব্যাকআপ দিতে পারে নাহ।

ব্যাটারি পুরনো হওয়ার সাথে সাথে এটি তার কার্য ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে থাকে। ফলে এটি অতিরিক্ত লোড সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জ ধারন ক্ষমতা কমে গেলেও এমনটা হয়ে থাকে।

3. ভাইরাস আক্রমণ করলে

মোবাইলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস ডাউনলোড করলে এর সাথে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস মোবাইলে প্রবেশ করে। এগুলো প্রভাবে ধীরে ধীরে মোবাইলের গতি কমে যায় এবং মোবাইল অচল হয়ে যায়।

মোবাইল তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে অচল হয়ে যাওয়ার কারনে মোবাইল ব্যবহারের সময় হঠাৎ হঠাৎ এটি বন্ধ হয়ে যায়।

তাই অপ্রয়োজনে মোবাইলে অ্যাপস ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।

4. নিয়মিত ফোনে সফটওয়্যার আপডেট না করলে

নিয়মিত মোবাইলের সফটওয়্যার আপডেট করলে মোবাইলের কার্য ক্ষমতা গতিশীল থাকে।

সফটওয়্যার আপডেট করলে মোবাইলে থাকা ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস গুলো অপসারীত হয়।

এতে করে মোবাইলে কাজ করার সময় এটি স্বাভাবিক গতিতে থাকে কিন্তুু মোবাইলে সফটওয়্যার আপডেট না করলে যেকোনো সময় মোবাইল চলা অবস্থায় এটি অপ হয়ে যাবে।

5. ইন্টারনেটে অধিক সময় গেম খেললে

অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে গেম খেললে মোবাইল সহ মোবাইলের ব্যাটারি অত্যাধিক গরম হয়ে যায়।

ফলে কিছু সময়ের জন্য এর কার্যক্ষমতা স্থীর হয়ে মোবাইলটি অপ হয়ে যায়।
এটি সাধারণত নিম্নমানের মোবাইল ফোনের কারনে হয়ে থাকে।

6. মাদারবোর্ডে সমস্যা থাকলে

অনেক সময় মাদারবোর্ড এর ত্রুটি জনিত কারণেও মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এর সমস্যা সমাধানে একজন মেকানিক এর কাছে নিয়ে যেতে পারেন।

7. দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে

আমরা অনেকেই কারণ ছাড়াই সারাদিন মোবাইল নিয়েই পড়ে থাকি। এই অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার ফলে আমাদের শরীরের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি মোবাইল ফোনেরও ১২ টা বাজে।

এর ফলে মোবাইল কাজ করা অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায়। তাই মোবাইল ফোন একটানা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ব্যবহার না করে এর মাঝে অবশ্যই বিরতি দিবেন।