মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ১০টি সতর্কতা অবলম্বন না করলে পড়বেন বিপদে!

তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হলো মোবাইল ফোন। এটি আমাদের জীবনের অত্যান্ত প্রয়োজনিয় জিনিস গুলোর মধ্যে একটি। নানা প্রয়োজনে আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি।

বিশেষ করে সারাদিনের ব্যাস্ততা শেষে অবসর সময় কাটানোর জন্য  মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হলেও, এদের মধ্যে অনেকেই আবার কারণে-অকারনে সারাদিনই মোবাইল ফোন নিয়ে বসে থাকে।




এই মোবাইল ফোন আমাদের জন্য অত্যাধিক প্রয়োজন হলেও সতর্কতা ছাড়া এটির ব্যবহার মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। এই মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্তও কল্পনা করা যায় না। কিন্তুু সারাক্ষণ মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখার কারণে মোবাইল থেকে বেরিয়ে আসা রেডিয়েশন আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। আর এই রেডিয়েশনের কারনে অনেকেই নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

কিন্তুু আমরা যদি মোবাইল ফোন ব্যবহারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করি তাহলে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারবো।

আজকের আর্টিকেলে আমরা মোবাইল ব্যাবহারের ক্ষেত্রে কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তা জানতে পারবো।




মোবাইল ব্যবহারের সতর্কতা

1. মোবাইল ফোনটি যতটা সম্ভব শরীর থেকে দূরে রাখুন। এতে করে মোবাইল থেকে বেরিয়ে আসা ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব আমাদের দেহের উপর পড়বে নাহ।

2. অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইলে কথা বললে অবশ্যই ল্যান্ডফোন ব্যবহার করবেন। এর ফলে আপনার কান সুরক্ষিত থাকবে। কানে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিবে নাহ।

3. মোবাইল ব্যবহারের দরকার না পড়লে মোবাইলটিকে অপ করে রাখুন কিংবা এরোপ্লেন মুড করে রাখুন।
4. কথা বলার সময় স্পীকার বা হেডফোন ব্যবহার করুন, তবে অধিক সময় পর্যন্ত কথা বলার ক্ষেত্রে হেডফোন এড়িয়ে চলুন।

5. চার্জ দেওয়ার সময় মোবাইল বন্ধ করে রাখুন।
6. চার্জে রেখে মোবাইল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

7. প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন নাহ। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার মানসিক অশান্তির অন্যতম কারন।
8. মোবাইল ফোন অবশ্যই শিশুদের থেকে দূরে রাখবেন।

9. লো ব্যাটারি থাকলে মোবাইলে কথা না বলাই শ্রেয়।
10. মোবাইলে ব্যাক কভার ব্যবহার না করাই ভালো।




প্রসঙ্গত, প্যান্টের পিছনের পকেটে মোবাইল রাখবেন না, কারন এতে করে বেড়ে যেতে পারে আপনার পা ব্যাথা। মোবাইল ফোন সামনের পকেটে রাখলে পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়। শার্টের পকেটেও মোবাইল রাখা উচিত নয়।

কারণ আমরা সকলেই জানি যে, মোবাইল ফোন থেকে মারাত্মক ক্ষতিকর রশ্মি নির্গত হয়। যা আমাদের মানব দেহে মারাত্মক বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এই ধরনের রশ্মি গুলোর প্রভাবে নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে এমনকি কখনো কখনো ক্যান্সার ও হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

তাই শার্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে তা থেকে রেডিয়েশন বের হতে পারে এবং এর প্রভাবে হার্টের ক্ষতি সাধন হতে পারে।

এছাড়াও আগুন বা তাপের সংস্পর্শে রাখলে মোবাইল অতিরিক্ত গরম হয়ে ব্লাস্ট হতে পারে। যার ফলে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ফোন রাখার সময় তা ঠান্ডা এবং শুষ্ক জায়গায় রাখুন। ভুলেও এটি তাপ বা আগুনের সংস্পর্শে রাখবেন না।

মোবাইল ফোন শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখা উচিৎ।  কেননা বাচ্চারা মোবাইল দিয়ে খেলা করলে তাদের হাইপারঅ্যাকটিভিটি, ডিফিসিট ডিসওর্ডার এর মতো অসুখ দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত হারে মোবাইল ব্যবহারের কারনে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে যুবকরা মোবাইল গেমে ও সামাজিক মাধ্যমে মারাত্মক ভাবে আসক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আসক্তির কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।

যেমন অনবরত মোবাইলে গেম খেলা,ভিডিও দেখা, টেক্সট করা,  মেসেজ পড়া, ই-মেইল দেখা এবং মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে ব্রাউজ করলে চোখের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দৃষ্টিতে সমস্যা দেখা দেয়। এখন বেশিরভাগ মোবাইল ফোনই আঙুলের স্পর্শের মাধ্যমে চালানো হয়।

এ কারণে বেশিক্ষণ মোবাইল চালালে আঙুল ও কবজিতে ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে ঘাড়-মাথাব্যথাও হতে পারে। দীর্ঘসময় মোবাইল ফোনে কথা বললে শ্রবণে সমস্যা দেখা দিতে পারে, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, দিনে পাঁচ ঘন্টার বেশি মোবাইল ব্যবহার করলে স্থুলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে,

হ্রদয় রোগের ঝুঁকিও বাড়বে পারে  বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এমনকি এই মোবাইল ফোনের প্রভাবে অনেকেই তার পরিবারের সদস্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।মোবাইল ফোনে আসক্তির ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে।

দিন দিন দেশ নিরক্ষর জাতিতে পরিনত হচ্ছে। দেশে বেকারত্বর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অবশ্যই প্রয়োজন ছাড়া তেমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করা উচিৎ নয়। 

প্রযুক্তির উন্নতি আমাদের জীবন যাত্রাকে সহজ ও প্রানবন্ত করেছে। কিন্তুু এইসব প্রযুক্তির সুফল ও কুফল আমাদের ব্যবহারের উপর নির্ভর করে।  তাই যদি আমরা কিছু সতর্কতা অবলম্বন করি তাহলে প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।