মোবাইল হ্যাকিং হওয়া থেকে রক্ষার কয়েকটি উপায়

How to protect any Mobile phone from hacking?

আপনি যদি আপনার মোবাইল ফোন হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করতে চান তাহলে কিছু উপায় বা নিয়ম জেনে নিতে হবে। মোবাইল ফোন হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচার অনেক উপায় আছে। এখানে মোবাইল হ্যাকিং হওয়া থেকে রক্ষার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

বর্তমান সময়ে মানুষ মোবাইলে গেমিং, ফিন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন, ব্যাংকিং, লাইভ ভিডিও কনফারেন্স, ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং ডাটা শেয়ারিং এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এর ফলে মোবাইল ফোনের স্টোরে ব্যাক্তিগত ও সংবেদনশীল অনেক তথ্য জমা হয়ে থাকে। তাই মোবাইল ফোন হ্যাক যাতে না হয় সেই জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আপনার জানা প্রয়োজন যা মোবাইল  হ্যাকিং হতে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।

ফলস্বরূপ আপনার মোবাইলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলো নিরাপদ রাখতে চান, তাহলে হ্যাকিং থেকে আপনার মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোনকে রক্ষা করতে হবে।

এখানে মোবাইল হ্যাকিং হওয়া থেকে রক্ষার ১০ টি উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

*দুই স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবহার করা

মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন ব্যাবহারকারীদের সাইবার হামলাকারীদের থেকে নিরাপদে রাখতে দুইস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যাবস্হা রয়েছে বিভিন্ন অ্যাপে। এই রকম ব্যাবস্হা থাকলে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড লিখলে ফোনে কোর্ড বা বার্তা পাঠানো হয়। কোর্ডটি ব্যাবহার করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যায়। ফলে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড হ্যাক করলে ও অ্যাকাউন্ট নিরাপদে থাকে। তাই ব্যাক্তিগত তথ্য বা অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যাবস্হা চালু করতে হবে।

* গোপন শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করা

অনেক লোক আছে যারা মোবাইলে পাসওয়ার্ড নাম বা জন্ম তারিখ দিয়ে কর থাকে। পাসওয়ার্ড নাম বা জন্ম তারিখ দিয়ে সেট করা হলে তা সহজে হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নাম বা জন্ম তারিখ ব্যাবহার না করে বিভিন্ন অমিল শব্দ বা বিভিন্ন ভাষার শব্দ, বর্ন দিয়ে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পিন সেট করতে পারেন। আপনার মোবাইল ফোনের সিকিউরিটি পাসওয়ার্ড বা পিন নাম্বার এমনভাবে সেট করুন, যা অনুমান করা কঠিন। আপনার মোবাইলে সিকিউরিটি পাসওয়ার্ড যত বেশি শক্তিশালী হবে, আপনার মোবাইল ফোন তত বেশি নিরাপদ হবে। 

*নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা

নিজের ফোনের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে। নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করলে মোবাইলে নিরাপত্তায় থাকা দুর্বলতা গুলোকে দূর করতে সহায়তা করবে। মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপস গুলো আপডেট করা জরুরি। তাই কোনো ধরনের সফটওয়্যার আপডেট এর নোটিফিকেশন আসলে সাথে সাথে ইন্সটল করে নিবেন। এতে আপনার মোবাইলের নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত হবে। আর তাতে হ্যাকাররা আপনার মোবাইল ফোন হ্যাক করতে পারবে না।

* পাবলিক ওয়াইফাই ব্যাবহার না করা

কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়া যদি আপনার মোবাইলে ওয়াইফাই চালু হয়, সেই ওয়াইফাই ব্যাবহার করবেন না। এতে আপনার মোবাইল ফোন হ্যাকিং হতে পারে। আর যদি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যাবহার করেন, সেক্ষেত্রে আপনার গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণ কোনো কাজে ব্যাবহার করবেন না।

আর যদি কোনো কারণবশত ব্যবহার করতে হয়, তাহলে ভুলেও সংবেদনশীল কার্যকলাপ গুলো, যেমন অনলাইন ব্যাঙ্কিং বা অনলাইনে কেনাকাটা করবেননা।

আপনাকে Open public Wi-Fi একান্তই ব্যাবহার করতে  হলে cyber ghost অথবা Tunnelbear এর মতো VPN পরিসেবা ব্যাবহার করতে পারেন। এর ফলে আপনার Online activities গুলো হ্যাকাররা দেখতে কিংবা ট্র্যাক করতে পারবে না।

*মোবাইলে এন্টিভাইরাস অ্যাপ ডাউনলোড করা

আপনি আপনার মোবাইলে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ডাউনলোড করে মোবাইলকে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার ও সম্ভাব্য সাইবার হামলা থেকে রক্ষা করতে পারেন।

মোবাইল এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার মোবাইলে real time scanning এর মাধ্যমে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও হ্যাকারদের সম্ভাব্য সাইবার হামলা সনাক্ত করে মোবাইলকে সুরক্ষা করে। আপনি Google play store থেকে mobile antivirus appsডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

* জেনে শুনে নতুন অ্যাপস ডাউনলোড করা

যে কোনো অ্যাপস ইন্সটল করলে বিভিন্ন অনুমতি চাওয়া হয়। যেমন -camera, file read, microphone access ইত্যাদি। যখন approve বা accept করা হয়, তখন অ্যাপসগুলো মোবাইলে থাকা ফাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উপর নজরদারি করতে পারবে। তাই হ্যাকিং থেকে বাঁচতে জেনে শুনে নতুন অ্যাপস ডাউনলোড করুন।

*মোবাইলে থাকা apps গুলো লক করে রাখা

প্রতিটি মোবাইলে অ্যাপস থাকে। WhatsApp, File manager, Facebook, Banking apps, ইত্যাদি অ্যাপস। প্রতিটি অ্যাপসে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ছবি,  ভিডিও, তথ্য থাকে। যদি কোনো কারনে মোবাইল হারানো যায় কিংবা চুরি হয় তাহলে আপনার গোপনীয় তথ্য গুলো অন্য লোক পেয়ে যাবে। যার কারনে আপনার বিশাল ক্ষতি হতে পারে। তাই মোবাইলের প্রতিটি Apps লক করে রাখুন।

*সন্দেহজনক ইমেইল না খোলা

হ্যাকাররা বিভিন্ন উপায়ে মোবাইল হ্যাক করে। বর্তমানে হ্যাকাররা ইমেইল আইডিতে ইমেইল পাঠিয়ে ম্যালওয়ার ডাউনলোড করা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করার চেষ্টা করে। সন্দেহজনক ইমেইল এর মধ্যে কিছু লিঙ্ক দওয়া থাকে, যে গুলো ক্লিক করার সাথে সাথে আপনার মোবাইল হ্যাক হতে পারে। তাই মোবাইল হ্যাক হতে বাঁচতে হলে কখনো সন্দেহজনক ইমেইলে ক্লিক করবেন না। এই ধরনের হ্যাকিংকে বলা হয় Phishing scams.

* মোবাইল রুট না করা

মোবাইল রুট করার যেমন সুবিধা আছে, তেমনি অসুবিধা ও আছে। মোবাইল রুট করার ফলে মোবাইলের ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে হ্যাকারদের হ্যাকিং করতে সুবিধা হয়ে যায়। তাই আপনি আপনার মোবাইল ফোন রুট করবেন না। তাতে আপনার স্মার্টফোন হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচতে পারবে।

* ব্লুটুথ প্রয়োজন ছাড়া বন্ধ করে রাখা

ব্লুটুথ এর মাধ্যমে ও একটি মোবাইল হ্যাক হতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া মোবাইলে ব্লুটুথ open করে রাখবেন না। এতে হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই প্রয়োজনে ব্লুটুথ ব্যাবহার করার পর বন্ধ করে রাখুন।