শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারীতা

মোবাইল ফোন এমন একটি প্রযুক্তি, যা আবিষ্কারের ফলে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার হয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারীতা অপরিসীম।

শিশুদের হাতে কলমে শিক্ষা থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ব বিদ্যালয়, অফিস আদালত ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন মানুষের শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। মোবাইল ফোন এখন মানুষের হাতে হাতে। মোবাইল ফোন আবিষ্কারের সময় থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে উন্নতি হয়ে মোবাইল এখন কম্পিউটার হিসাবে ও ব্যাবহার হচ্ছে।

আর এই জন্য মোবাইলকে বলা হয় মিনি কম্পিউটার। অদূর  ভবিষ্যতে হয়তো মোবাইল ফোন শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থা থেকে আরো ছাড়িয়ে যাবে।

শিক্ষা কি?

শিক্ষা হলো যে কোনো বিষয়ে হাতে কলমে লেখা, পড়া, জানা, শোনা ও বুঝা। এক কথায় যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা হলো শিক্ষা।

আর এই শিক্ষা হতে পারে কৃষি, ব্যাবসা বানিজ্য, সংস্কৃতি, আচার আচরণ, ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর এই শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারীতা অপরিসীম।

শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারীতা নিচে দেওয়া হলো –

বর্তমান যুগের শিক্ষা ব্যাবস্হা অনেকটাই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে।মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশন করে ইন্টারনেট ব্যাবহারের মাধ্যমে সকল বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।

যার ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

1. ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারীতা অপরিসীম। ছাত্র ছাত্রীরা মোবাইল ফোনে অনলাইন থেকে তাদের যে কোনো পড়াশোনা, প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইন থেকে বের করতে পারে।

আধুনিক কালে অনলাইন স্কুল, বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস, অনলাইনে বই ও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা মূলক ভিডিও, ছাত্র ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন, ছবি আপলোড, বেতন ইত্যাদি সবকিছু অনলাইনে করা হচ্ছে। যেখানে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ছাড়া এগুলো করা অসম্ভব।

কোভিড ১৯ এর সময় যখন সমস্ত পৃথিবী নিস্তব্ধ হয়ে যায় তখন ছাত্র ছাত্রীদের একমাত্র অবলম্বন ছিল মোবাইল ফোন। এই মহামারীর সময় শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

তখন শিক্ষার্থীরা ক্লাস করা, পড়াশোনার নোটিশ, এসাইনমেন্ট সহ যাবতীয় সকল তথ্য মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে সংগ্রহ করে।

2. শিশুদের হাতে খড়ি

শিশুদের পড়ালেখা শিখানোর জন্য অনলাইনে বিভিন্ন শিক্ষা মূলক বিষয় আছে। যেমন – বর্ন পরিচয় , লেখা শিক্ষা, মুখে মুখে বলি ও শিখি ইত্যাদি।

এরফলে মোবাইল ফোনে অনলাইন চালু করে শিক্ষা মূলক এই সকল বিষয় শিখার জন্য শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন দিলে শিশুরা শুনে শুনে শিখতে পারে। এছাড়া কবিতা আবৃতি , গান, গজল, নাচ ইত্যাদি দেখে ও শুনে সহজে শিখতে পারে।

3. শিক্ষকগনের প্রশিক্ষনমূলক কার্যক্রম

শিক্ষা ক্ষেত্রে দিন দিন প্রতি শ্রেনীর বই পরিবর্তন হচ্ছে এবং নতুন নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে। যার ফলে শিক্ষকগনের নতুন কারিকুলাম শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের অনেক কিছু অজানা থাকে।

এই সকল বিষয়ের সমাধান অনলাইনে দেওয়া থাকে। শিক্ষকগন এই সকল অজানা বিষয় গুলো মোবাইল ফোনে অনলাইন থেকে জেনে নিতে পারে।

তাছাড়া সরকার শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পত্র প্রদান, রেজিষ্ট্রেশন, ফরম পূরন, উপবৃত্তি ইত্যাদি বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

শিক্ষকগন মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন থেকে এই সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে এবং অজানা বিষয়ে শিখে নিতে পারে।

4. চাকরি প্রার্থীগনের জন্য

চাকরি প্রত্যাশিদের জন্য বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ক্লাস, শিক্ষা বার্তা, বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর, কোন চাকরির জন্য কোন ধরনের প্রশ্ন, মৌখিক পরীক্ষা কেমন হতে পারে, ভাইবা বোর্ডে কিভাবে যেতে হবে, আচার আচরণ কেমন হতে হবে সব কিছু দেওয়া থাকে।

মোবাইল ছাড়া অনলাইন থেকে এই সকল তথ্য বের করা এবং জানা যায় না। এছাড়া চাকরির জন্য সকল ধরনের বিজ্ঞাপন অনলাইনে দেওয়া থাকে। তাই চাকরির বিজ্ঞাপন জানতে হলে মোবাইলে অনলাইন থেকে জেনে নিতে হবে।

5. কৃষি কাজে

পৃথিবীর সকল দেশের বেশির ভাগ কৃষক অশিক্ষিত। যার কারণে ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, বীজ নির্বাচন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, চাষাবাদ পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান নাই।

এই সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সুন্দর ভাবে অনলাইনে দেওয়া থাকে। কৃষকগন মোবাইল ফোনে অনলাইন থেকে কৃষি কাজে যা প্রয়োজন চাইলে তা বের করে জেনে নিতে পারে এবং কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন করতে পারে।

6. ব্যাবসা বানিজ্যে

মোবাইল প্রযুক্তির উন্নতিতে সারাবিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ব্যাবসা বানিজ্যে কিভাবে সফল হওয়া যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য মোবাইলে অনলাইন থেকে শিখা ও জানা যায়।

যেমন – প্রয়োজনী কাঁচামাল ব্যাবহার, কর্মী পরিচালনা, কোথায় কোন জিনিসের চাহিদা,  ব্যাবসা কার্যক্রম পরিচালনার প্রশিক্ষন, যাতায়াতের সুবিধা অসুবিধা, পন্যের বাজার দর, কোন দ্রব্যের দোকান কোথায় দিতে হবে ইত্যাদি ।

আবার ব্যাবসার খাতিরে যে কোনো বিষয়ে যে কোনো লোককে মোবাইলে ফোন দিয়ে কল করে জানা ও শিখা যায় ।  যার ফলে ব্যাবসা বানিজ্যে সফলতা বেশি ও ঝুঁকি কম থাকে।

7. খেলাধুলা ও সংস্কৃতি

খেলাধূলা ও সংস্কৃতিতে মোবাইল ফোনের উপকারীতা রয়েছে। রেডিও টিভির পরিবর্তে এখনকার জেনারেশন মোবাইলে সকল ধরনের খেলাধুলা,

গানবাজনা, ছবি, বিভিন্ন ধর্মের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দেশের মানুষের চালচলন, পোশাক পরিচ্ছেদ, কথাবার্তা, খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি দেখে ও শুনে। এরফলে মানুষ নানাধরণের খেলাধুলা ও নানান দেশের ও ধর্মের সংস্কৃতি সাথে পরিচয় হয় ও শিখতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকল পেশার , সকল ধর্মের, সকল জাতির মানুষ তাদের জানা, শিখা, শুনা ও বাঁচার জন্য যা প্রয়োজন সকল কিছু পেয়ে থাকে। মোবাইল ফোন মানুষের জীবনকে অনেক সহজ ও সুন্দর করতে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

Leave a Comment