স্মার্টফোন যেভাবে ব্যাবহার করলে চোখের ক্ষতি হয়না

বর্তমানে সকল পরিবারে স্মার্টফোন আছে। এমন অনেক পরিবার আছে, যে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের হাতে একটি করে মোবাইল ফোন আছে। আর স্মার্টফোন পেলে তো কথাই নেই। সারাক্ষণ ফোন নিয়ে ব্যাস্ত থাকে।

দেখা যায় কিছুক্ষন ভিডিও কলে কথা বলছে, আবার কিছু সময় ফেসবুক দেখছে, এরপর হয়তো মোবাইল ফোনে গেমস খেলছে। এভাবে সারাক্ষণ স্মার্টফোন ব্যাবহারের ফলে চোখের ক্ষতি হয়। কিন্তু স্মার্টফোন যেভাবে ব্যাবহার করলে চোখের ক্ষতি হয়না তা জানা সবার প্রয়োজন।

স্মার্টফোন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়। এই রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করতে হলে স্মার্টফোন কিভাবে ব্যাবহার করা দরকার তা জানতে হবে। আর এর ফলে আপনার চোখকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

স্মার্টফোন যেভাবে ব্যাবহার করলে চোখের ক্ষতি হয়না।

চোখের ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে স্মার্টফোন ব্যাবহারের সময় কি কি ব্যাবহার করতে হবে বা কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে তা নিচে দেওয়া হলো –

1. সবসময় স্মার্টফোনের স্কিন পরিষ্কার রাখতে হবে।

স্মার্টফোনের স্কিনের উপরে অনেক সময় বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা পড়ে। এতে স্কিনের উপরে দাগ পড়ে। এই সব দাগ ও ময়লা আবর্জনা যাতে না থাকে সেই জন্য সব সময় পরিষ্কার করতে হবে।  স্কিনের বাহিরের এই সব ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের সময় নরম কাপড় ব্যাবহার করতে হবে। এতে চোখের ক্ষতি কম হবে।

এছাড়া স্মার্টফোন ব্যাবহারকারী তার প্রয়োজনে অনেক অ্যাপ Download করে। এই সকল অ্যাপ হোম স্কিনে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। সেই অ্যাপগুলোকে হোম স্কিনে গুছিয়ে রাখতে হবে। কারণ এর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও জড়িয়ে থাকে।

2.  স্কিন ব্রাইটনেস এডজাস্ট করতে হবে

অনেক বেশি ব্রাইটনেস চোখের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অনেক কম ব্রাইটনেস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর। তাই চোখের ক্ষতি যাতে না হয় এই জন্য মোবাইলের সেটিংসে ডুকে ফিচার্চটি এডজাস্ট করতে হবে। কিন্তু বারবার সেটিংসে ডুকে স্কিনের আলো বাড়ানো কমানো বিরক্তিকর।

এই বিরক্তিকর অবস্থা থেকে বাঁচতে আপনি অ্যাডপ্টিভ ব্রাইটনেস সেটিংসটি ব্যাবহার করতে পারেন। এটি আপনার মোবাইলে কখন কি পরিমাণ আলো লাগবে, তা আশেপাশের আলোর সাথে তাল মিলিয়ে আপনার স্মার্টফোনের আলো পাল্টে দিবে। এতে আপনার চোখের কোনো ক্ষতি হবে না।

3. প্রয়োজনে ফোনের (text) টেক্সট বা লেখা  বড় করতে হবে

মোবাইলের স্কিন ছোট হওয়ার কারনে লেখাগুলো ছোট হয়। ছোট লেখা পড়তে গিয়ে চোখের সমস্যা হয়। চোখের যাতে সমস্যা না হয় সেই জন্য প্রয়োজন text বা লেখা বড় করা। বড় লেখা চোখের ক্ষতি করে না। আর সেজন্য আপনার মোবাইলে লেখা একটু বড় করার চেষ্টা করবেন।

মোবাইলের text বা লেখা বড় করতে হলে প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে। সেটিংস থেকে ডিসপ্লে অপশনে গিয়ে টেক্সট সাইজ আপনার সুবিধামতো বাড়িয়ে নিতে হবে। এরফলে আপনার মোবাইলে আসা মেসেজ কিংবা মোবাইলে যে কোনো কিছু লিখতে, পড়তে সুবিধা হবে। এতে আপনার চোখের কোনো ক্ষতি হবে না।

4. ডার্ক মোড ব্যাবহার করতে হবে

অন্ধকারে মোবাইল ফোন চালালে মোবাইলের বেশি আলো বা উজ্জ্বল আলো চোখের ক্ষতি করে। আর এই জন্য প্রয়োজন মোবাইলে ডার্ক মোড ব্যাবহার করা। মোবাইলে ডার্ক মোড ব্যাবহার করলে চোখের ক্ষতি হয় না।

মোবাইলে ডার্ক মোড চালু করতে হলে প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে। সেটিংস থেকে ডার্ক মোড চালু করতে হবে।  ডার্ক মোড চালু করলে আপনার মোবাইলে অন্ধকারে যা আলোর প্রয়োজন তা পাবেন। এর ফলে চোখের সমস্যা হবে না।

5. Blue cut চশমা ব্যাবহার করতে হবে

এক নাগাড়ে অনেকক্ষন স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে চোখে ঝাপসা দেখা, চোখ থেকে পানি পড়তে থাকা, চোখ টনটন করতে থাকা ইত্যাদি সমস্যা চোখে দেখা দিতে পারে। এই জন্য আপনাকে blue cut চশমা চোখে ব্যাবহার করতে হবে।

চোখে blue cut চশমা লাগিয়ে সারদিন মোবাইল ফোন দেখলে ও চোখের ক্ষতি হবে না। কারন blue cut চশমা মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রশ্মি প্রতিরোধক। এই চশমায় যে গ্লাস থাকে সেই গ্লাসের ভিতর দিয়ে স্মার্টফোন থেকে নির্গত রশ্মি চোখে আসতে পারে না। ফলে চোখের কোনো ক্ষতি হবে না।

সর্বপরি বলা যায়, স্মার্টফোনের উজ্জ্বল আলো চোখের ক্ষতি করে। কিন্তু তা থেকে চোখকে রক্ষা করতে হলে স্মার্টফোন যতটুকু সম্ভব কম ব্যাবহার করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যাবহার করা যাবে না। এরফলে স্মার্টফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি ও উজ্জ্বল আলো চোখে কম আসবে। ফলস্বরূপ চোখের কোনো ক্ষতি হবে না।

আরও পড়ুন:

স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ করে যে অ্যাপগুলো

ইন্সটল করে চালু না করলে ও মোবাইলের তথ্য চুরি করে যে দুইটি অ্যাপ জেনে নিন 

গুগল ড্রাইভের স্টোরেজ খালি করার নিয়ম