এখনি এই ৯ টি অ্যাপস আপনার মোবাইল থেকে ডিলিট করুন।

সাধারণ প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে নানা ধরনের অ্যাপ উন্মুক্ত থাকে। এগুলো সাধারণত বিনা মূল্যে ডাউন লোড করা যায়। তাই অনেকেই বিনামূল্যে এসব অ্যাপ ব্যাবহার করে থাকে।

কিন্তু এর সব গুলোই আমাদের জন্য উপকারী নয়। কিছু অ্যাপ আছে যে গুলো মোবাইলে মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। এই অ্যাপ ব্যবহার করার সময় আমরা বুঝতেই পারি না যে এগুলো আমাদের মোবাইলের জন্য ক্ষতিকর। গুগলের অনেক প্রচেষ্টা বা পলিসি ( Policy) থাকা সত্ত্বেও এগুলো গুগল প্লে-স্টোরে জায়গা করে নিয়েছে।

সম্প্রতি একটি নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, অফিসিয়াল গুগল প্লে-স্টোরে বেশ কিছু ক্ষতিকর অ্যাপস তালিকাভুক্ত রয়েছে। এগুলো মোবাইলে ক্ষতি করার পাশাপাশি মোবাইলে থাকা ঐ ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য ছবি,  অডিও ভিডিও এবং পার্সোনাল তথ্য চুরি করে। ঐ ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রাইভেসি ( privacy) নষ্ট করে। এগুলো কখনো কখনো মোবাইলে থাকা অন্যান্য অ্যাপস গুলোকে নিস্ক্রিয় করে দেয়।

ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে বা সোসাইল  মিডিয়ায় (Social media) প্রকাশের ফলে সামাজিক দাঙ্গা হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়। যা একজন মানুষের জীনকে নিস্তেজ করে দেয়। এছাড়া অনেকে আত্নহত্যাও করে থাকে।

এন্টিভাইরাস ( Antivirus) তৈরী কারক প্রতিষ্ঠান সিমেন্টেক ও চেক পয়েন্টের মতে নিরাপত্তা সংস্থার গবেষকরা গুগল প্লে-স্টোরে লুকানো ম্যালওয়ার সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন ব্যাবহারকারীদের। তাদের মতে, এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশন গুলো সাধারণ ডিভাইস বুস্টার, ক্লিনার্ম, ব্যাটারী সেভার (Battery sever) ইত্যাদি অ্যাপসের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।

এছাড়া ও গেম, এডুকেশন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে এই ধরনের ক্ষতিকর অ্যাপ লুকিয়ে থাকে। সাধারণত প্লে-স্টোরে ডুকে আমরা উপকারী অ্যাপ মনে করে সেগুলো ডাউন লোড করে থাকি। আর নিজেদের মনের অজান্তেই ক্ষতির সম্মুখীন হই। তাহলে চলুন জেনে নেই কোন অ্যাপস গুলো মোবাইলের জন্য ক্ষতিকরঃ

1. মাস্টার ক্লিনার

মোবাইল ফোনের গতি ঠিক রাখতে অর্থাৎ মোবাইলের গতিশীলতা বজায় রাখতে আমরা মাস্টার ক্লিনার ব্যাবহার করে থাকি। বর্তমানে প্রায় সকলে স্মার্টফোন ব্যাবহার করে। আর মাস্টার ক্লিনার স্মার্ট ফোন ব্যাবহারকারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই মাস্টার ক্লিনার আমাদের জন্য খুবই উপকারী তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এর কিছু অপকারিতা ও রয়েছে।

অ্যাপটির এই অপকারীতার কথা শুনলে আপনি আপনার স্মার্ট ফোন থেকে তা ডিলেট করতে বাধ্য হবেন। মাস্টার ক্লিনার এর মাধ্যমে আপনার স্মার্ট ফোনে ভয়ংকর শার্কবট ম্যালওয়ার ( Shark Bot Malware) প্রবেশ করতে থাকে। আর এই ভাইরাস স্মার্ট ফোনে থাকা বিভিন্ন তথ্য চুরি করে সকলের নিরাপত্তা নষ্ট করে। তাই অ্যাপটি স্মার্টফোনের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

2. কালারিং বুকস ফর রিডস (Colouring books for reads)

তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে আজ শিশুরা মোবাইল ফোন দিয়ে রং করা শিখতে পারছে। সহজেই স্বরবর্ন, ব্যান্জনবর্ন শিখতে পারছে।

এই সব অ্যাপস শিশুদের মেধার বিকাশ ঘটাতে সহযোগী হলেও এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে স্মার্টফোনের ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এই ধরনের অ্যাপ মোবাইলে না রাখাই ভালো।

Related: ভূলেও এই ৭ ধরনের দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না

3. পারমোনাল হরোস্কোপ

প্রতিদিন হরোস্কোপ দেখার জন্য অনেকেই পার্শোনাল হরোস্কোপ অ্যাপটি ব্যবহার করে থাকেন। তবে এটির ক্ষতিকর দিক হলো, এটি স্মার্টফোনের গতি কমিয়ে দেয়।

4.  অ্যাপ- লক প্রাইভেসি প্রটেক্টর

ফোনের প্রাইভেসি বাড়ানোর জন্য অনেকেই এই ধরনের অ্যাপ ব্যাবহার করে থাকেন। এই গুলো মোবাইলের রোমের জন্য ক্ষতিকর।

5. হার্ডওয়্যার অপটিমাইজেশন অ্যাপস

Google  play store সহ chrome brouser এমন অসংখ্য অ্যাপস রয়েছে। যেগুলো  দাবী করেছে যে ,তারা আমাদের মোবাইলের হার্ডওয়্যার অপটিমাইজেশন করে দিবে অর্থাৎ ফোনের র‍্যাম ক্লিন করতে পারে, সিপিইউ বুস্ট করতে পারে, ব্যাটারি ফাস্ট চার্জ করতে পারে এমনকি এই অ্যাপ গুলো ব্যাটারি সেভার হিসাবেও কাজ করে থাকে।

আসলে মূলত এটা একটি ভুয়া অ্যাপ। এটি আসলে আমাদের মোবাইলে কোনো ধরনের হার্ডওয়্যার অপটিমাইজেশন করে না। অর্থাৎ কোনো ধরনের র‍্যাম ক্লিন করে না, সিপিইউ বুস্টও করতে পারে না।এগুলো সাধারণত আমাদের মোবাইলে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে নেয়, ডাটা এক্সেস স্লো করে দেয়, মোবাইলের গতি কমিয়ে দেয়।

এছাড়াও আমাদের তথ্য প্রযুক্তি এখন এতই উন্নত হয়েছে যে, এগুলোর সবই স্মার্টফোনে দেওয়া থাকে। তাই আলাদা করে App Store থেকে ডাউনলোড করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না।

6. শেয়ার ইট (SHAREit)

এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় একটি অ্যাপস হলো SHAREit। কিন্তুু বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা অনেক কমে গেছে। কারন এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা গেছে। যার সবগুলোই প্রমানিত ও যুক্তিসঙ্গত। এই App টি Google Play store থেকে ১০মিলিয়নেরও বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে।

এটি গ্রাহকের লোকেশন, স্টোরেজ, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন সহ অসংখ্য সেনসিটিভ এক্সেস নিয়ে নেয় এবং গ্রাহককে নানা রকম আপত্তিকর বিজ্ঞাপন দেখাতে থাকে। যেটা খুবই বিব্রতকর। অন্যান্য ক্ষতিকর অ্যাপস গুলোর মধ্যে এটিও অন্যতম। তাই এই অ্যাপটি এখনি মোবাইল থেকে আনইন্সটল করে দিন। আর যদি খুব বেশি প্রয়োজন হয় তবে ব্যবহার করার পরপরই রিমুভ করে দিবেন।

7. ইউসি ব্রাউজার

পৃথিবীর সর্বাধিক জনপ্রিয় এন্ড্রয়েড ব্রাউজার গুলোর মধ্যে ইউসি ব্রাউজার অন্যতম। এটি একটি চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। যদিও এই ব্রাউজারটি নিজেকে অনেক সিকিউরড বলে তবে প্রকৃত পক্ষে তেমনটি নয়। এই ইউসি ব্রাউজারটি আপনার লোকেশন ট্র্যাক করে, ওয়েব হিস্ট্রি, সার্চ হিস্ট্রি সহ সকল ডেটা আলিবাবা ডট কমের কাছে হস্তান্তর করে দেয়।

আলিবাবা সেই অনুযায়ী আপনাকে বিজ্ঞাপন দেখাতে থাকে। আপনি যদি ইউসি ব্রাউজার চালিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই লক্ষ্য করেছেন যে, আপনি যেই জিনিস গুলোর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন সেগুলোর বিজ্ঞাপন  আপনাকে দেখানো হয়। এর কারণ মূলত এই ব্রাউজারটি আগেই আপনার Interest আয়ত্ত করে নিয়েছে। এবং সেই তথ্য গুলো আলিবাবা ডট কমের কাছে হস্তক্ষেপ করছে।

আপনি জানলে অবাক হবেন যে, যদিও এটি একটি চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সেই সাথে এটি আলিবাবা গ্রুপের একটা সাব-সিডিয়ারি কোম্পানি। তাই এই ব্রাউজারটি ইউজ করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি চাইলে ইউসি ব্রাউজার এর পরিবর্তে Chrome Browser & Mozila Firefox ব্যবহার করতে পারেন। এই দুই ব্রাউজার খুবই নিরাপদ এবং ফ্রাস্টেট।

8. ইমো (Imo)

অন্যান্য ক্ষতিকর অ্যাপস গুলোর মধ্যে ইমো ও তালিকা ভুক্ত রয়েছে। এটি মোবাইলের জন্য অনেক ক্ষতিকর ও বিপদজনক। এই অ্যাপসটি এতটাই দূর্বল যে গ্রাহকের নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে না।

যারা ইমো ব্যাবহার করেন, তারা নিশ্চয়ই খেয়াল করছেন যে, এতে যে কোনো লোক নাম্বার এড করে অডিও ভিডিও কল, আজে বাজে টেক্সট ও বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি পাঠাতে পারে যা সত্যি বিরক্তিকর। ইমোর টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন সিস্টেমও খুবই দূর্বল। যার কারণে প্রতি দিন কারো না কারো ইমো আইডি হ্যাক হয়ে যাচ্ছে।

আপনারা চাইলে ইমোর পরিবর্তে হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এটি বর্তমান সময়ে ব্যাবহারকারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এবং এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও খুবই উন্নত।

9. ট্রু-কলার ( True-caller)

অন্যান্য অ্যাপস গুলো হয়তোবা এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। কিন্তু আপনারা যারা ট্রু-কলার ব্যাবহার করেছেন বা করেননি কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাবহার করার ইচ্ছে রয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে বলবো এই অ্যাপসটি ব্যাবহার না করাই ভালো।

এর মাধ্যমে খুব সহজে যেমন অন্য একজন লোকের পরিচয় জানতে পারবেন,  ঠিক একইভাবে ঐ ব্যাক্তিও আপনার পরিচয় জেনে যাবে। এতে করে আমাদের নিরাপত্তা নষ্ট হয়।তাই ট্রু-কলার (True-caller) অ্যাপসটি না ব্যাবহার করাই ভালো।

এছাড়া আরো বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস রয়েছে, যেগুলোর ব্যাবহার আমাদের স্মার্টফোন এর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও সবগুলো অ্যাপস এর বর্ননা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সংক্ষিপ্ত ভাবে স্মার্টফোন এর জন্য ক্ষতিকর আরও কিছু অ্যাপসের নাম দেওয়া হলো, যেগুলো স্মার্টফোনে না রাখাই ভালো।

যেমনঃ Free camscanner, Go messages, Travel wallpaper,  All god PDF Scanner,  Tangram App lock, Direct messenger, Private sms, Style photo College, Meticulous scanner, Deslre translate, Talent photo editor blue focus, Care message, Part message paper Doc scanner, Blue scanner, Third party apps, Antivirus software, Fast charging  ইত্যাদি।

মোটকথা, আপনারা যতগুলো অ্যাপস দেখবেন সবগুলো অ্যাপসের যেমন ভালোর দিক আছে, তেমনি খারাপ দিক ও আছে। তাই ব্যাবহারের পর অ্যাপসগুলো মোবাইল ফোন থেকে ডিলেট করে দেওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন:

পুরাতন মোবাইল কেনার সময় এই ১০ টি ভূল ভূলেও করবেন না 

মোবাইল ফোন দ্রুত চার্জ করার ৫ টি উপায় 

মোবাইল ফোন রুট করা উচিত সুবিধা ও অসুবিধা 

ভূলে ও এই ৭ ধরনের দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না

 

Leave a Comment