মোবাইল দিয়ে গেমস খেলার ১০টি ক্ষতিকর দিক।

বর্তমান সময়ে যুবকদের সব চেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মোবাইলে গেমস খেলা। শুধু যুবকরা নয় ছোট, বড়,বৃদ্ধ সকলেই মোবাইলে গেমস নিয়ে ব্যস্ত থাকে। মোবাইলে অনলাইন গেমসের প্রতি যুবকরা এতটাই আকৃষ্ট যে, দিনের বেশির ভাগ সময়ই তারা এই মোবাইলের পিছনে ব্যায় করে দেয়।

মোবাইল দিয়ে গেম খেলার কারণে মোবাইলের যেমন ক্ষতি হয়, ঠিক তেমনি এর অনেক ক্ষতিকর প্রভাব মানুষের ব্যাক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ও পড়ে। তাই চলুন জেনে নেই মোবাইল দিয়ে গেমস খেলার ক্ষতিকর দিক গুলো কি কি!!

ব্যাক্তিগত জীবনে মোবাইল দিয়ে গেম খেলার ক্ষতিকর দিকগুলো হলোঃ

1. চোখের সমস্যা

অধিক সময় ধরে মোবাইলে গেমস খেলার কারণে চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে অকালে চোখের সমস্যায় ভুগতে হয়। চোখের সমস্যার মধ্যে রয়েছে,

চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখের কারণে মাথা ব্যাথা, চোখে ঝাপসা দেখা, চোখ জ্বালা করা, চোখে না দেখা ইত্যাদি। তাই অল্প বয়সে চোখের ক্ষতি না করতে চাইলে যতটা সম্ভব মোবাইলে গেমস কম খেলবেন। কাজের ফাঁকে ১০ হইতে ১৫ মিনিট গেমস খেলতে পারেন।

যদি এর চাইতে বেশি খেলেন তবে চোখের সমস্যা এড়াতে Blue cut চশমা ব্যাবহার করতে পারেন। এটি মোবাইল হইতে বিচ্ছুরিত গামা রশ্মি প্রতিহত করে এবং এরফলে চোখ সুরক্ষিত থাকে।

2. মাথা ব্যাথা

অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইলে গেমস খেলার কারণে আমাদের মনোযোগ শুধু মোবাইলেই থাকে। হঠাৎ করে মোবাইল রেখে অন্য দিকে তাকালে প্রচুর মাথা ব্যাথা শুরু হয়।

তাই এই সমস্যা থেকে বাঁচতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে মোবাইল গেমস এর প্রতি আসক্তি কমাতে হবে। এতে করে আপনার স্বাস্থ্য ও মন ভালো থাকবে।

3. ঘাড় ব্যাথা করা

সাধারণত মোবাইলে গেমস খেলার সময় আমরা ঝুঁকে থাকি। খুব কম সময়ই আমরা শুয়ে শুয়ে খেলি। ঝুঁকে বসে মোবাইলে অধিক সময় গেম খেলার কারণে ঘাড় ব্যাথা হয়ে যায়।

তাই নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে মোবাইলে অতিরিক্ত গেমস খেলা বাদ দিতে হবে। সেই সাথে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যাবহার ও পরিহার করতে হবে।

4. মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া

মোবাইলে গেমস খেলার সময় আমরা আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ গেমসের দিকেই রাখি। তখন আমাদেরকে কেউ ডাকলে আমরা তার প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করি। কখনো কখনো নিজের অজান্তেই খারাপ ব্যাবহার করে অন্যকে আঘাত করি।

এছাড়া অধিক সময় মোবাইলে গেম খেলার পর আমরা স্বাভাবিক ভাবেই ক্লান্তি বোধ করি। এই সময় আমাদের কোনো কাজের কথা বললে আমরা অনেক বাজেভাবে রেগে যাই এবং নানা কথা শুনাতে থাকি।

5. চিন্তা শক্তি কমে যাওয়া

সব কিছুই অতিরিক্ত খারাপ। অতিরিক্ত গেম খেলার প্রভাবে মানুষের চিন্তা শক্তি কমে যায়। সৃজনশীল মেধা হ্রাস পায়। ফলে ব্যাক্তির নতুন কিছু সৃষ্টির দক্ষতা কমে যায়। সেই সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও কমে যায়। সৃজনশীল মেধা কমে যাওয়ার কারণে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে।

6. পড়াশোনার প্রতি অনিহা

বর্তমান যুগে শিশু, কিশোর, যুবক, যুবতী সবায় মোবাইলে গেমস খেলা নিয়ে এত বেশী আসক্ত হয়ে পড়ছে যে, যার কারণে তারা পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। পড়া লেখার সময় পড়ালেখা ছেড়ে মোবাইলে গেমস খেলছে। ফলে অনেকে পড়ালেখা ছেড়ে দিচ্ছে এবং অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে।

মোবাইল দিয়ে গেম খেলার কারণে সমাজ জীবনে যে প্রভাব গুলো পড়ছে সেগুলো হলোঃ

1. সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হচ্ছে

মোবাইল গেমে আসক্ত একজন যুবক সাধারণত বাহিরের সবকিছু হতে নিজেকে আলাদা করে রাখে। মোবাইলের বাহিরে সে অন্য কিছু চিন্তা ও করতে পারে না।

এর ফলে সে তার মা, বাবা, পাড়াপ্রতিবেশি, গুরুজনের দেওয়া শিক্ষা অর্থাৎ বিভিন্ন আদেশ নিষেধ ভূলে গিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। তাই বলা যায় মোবাইল দিয়ে অতিরিক্ত গেম খেলার কারণে মানবিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়।

2. বেকারত্বের সৃষ্টি হয়

যুবকদেরকে ভবিষ্যতের প্রদীপ বলা হয়। কিন্তু বর্তমানে যুব সমাজরা মোবাইল গেমসের প্রতি এতটা আসক্ত যে, তারা তাদের পড়াশোনা, দায়িত্ব, কর্তব্য, কাজকর্ম ইত্যাদি বাদ দিয়ে সারাদিন মোবাইলের পিছনে পড়ে থাকে।

এরফলে কাজকর্ম না করায় বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে। সেই সাথে দেশের মানুষ ও চরম দারিদ্রতার স্বীকার হচ্ছে।

3. বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে

মোবাইল গেমে অধিক সময় ব্যয় করার ফলে এখনকার ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার প্রতি মনোনিবেশ করে না। মা বাবা,পাড়াপ্রতিবেশি ও গুরুজনদের দেওয়া শিক্ষা ও গ্রহণ করে না। কিভাবে মানুষের সাথে কথাবার্তা ও আচরণ করতে হয় তাও তারা জানে না। এরফলে অনেক বিষয় নিয়ে তর্ক করে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।

মোবাইলে গেমস খেলার ফলে মোবাইলের যে ধরনের ক্ষতি হয় সেগুলো হলোঃ

1. মোবাইলের টেম্পারেচার হাই হয়ে যাওয়া

মোবাইলে অধিক সময় গেমস খেললে মোবাইলের Temperature অর্থাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে মোবাইল গরম হয়ে যায়। এতে কখনো কখনো মোবাইলের ভিতরে নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। অনেক সময় ভিতরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পুড়ে যায় এবং পুরো ফোনটি নষ্ট হয়ে যায়।

2. মোবাইলের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়

মোবাইলে গেমস খেলার ফলে ব্যাবহারকারী সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হয় সেটি হচ্ছে মোবাইলের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়া। অধিক সময় মোবাইলে গেমস খেলার কারণে মোবাইলের চার্জ শূন্য হয়ে যায়।

এবং তখন আমরা দ্রুতই চার্জ লাইনে সংযুক্ত করি। আর চার্জে রেখেই মোবাইলে গেমস খেলতে থাকি।এরফলে মোবাইলের ব্যাটারির উপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয় এবং ব্যাটারি গরম হয়ে ফুলে যায়। এছাড়া মোবাইলে গেমস খেললে ব্যাটারির চার্জ ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।

3. মোবাইল হ্যাং হয়ে যায়

মোবাইলের সবচেয়ে পরিচিত একটি সমস্যা হলো মোবাইল হ্যাং করা। এটি সাধারণত মোবাইলের দুই- চার বছর হলে দেখা দেয়। তবে নতুন মোবাইলের ক্ষেত্রে হ্যাং তখনই করে যখন মোবাইলটি অত্যধিক ব্যাবহার করা হয়।

মোবাইলে বেশিক্ষণ গেম খেললে অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইল চলমান থাকে বলে মোবাইলের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে স্লো হয়ে যায় এবং মোবাইল প্রচুর হ্যাং করে। 

4. মোবাইল হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে

অনেক সময় অনলাইনে গেম খেলার কারণে মোবাইলে একধরনের ম্যালওয়ার প্রবেশ করে। যেগুলো মোবাইলে থাকা বিভিন্ন তথ্য চুরি করে এবং মানুষের গোপনীয়তা নষ্ট করে।

এরফলে পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তথ্য বাহিরে প্রকাশিত হলে ব্যাক্তিগত জীবনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।

5. মোবাইলের storage full হয়ে যাওয়া

সাধারণত মোবাইলে গেমস খেলার জন্য আমরা নানা ধরনের গেমিং অ্যাপস ডাউনলোড করে থাকি।এর কারণে মোবাইলের স্টোরেজ পুল হয়ে যায়। মোবাইলের স্টোরেজ পুল হওয়ার কারণে এর কার্যক্ষমতা ও নষ্ট হয়ে যায় এবং মোবাইল স্লো হয়ে যায়

পরিশেষে বলা যায় মোবাইলে গেমস খেলার ফলে শিক্ষা, ব্যাক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি যে মোবাইল দিয়ে গেমস খেলে সেই মোবাইলের ও ক্ষতি হয়। তাই  মোবাইলের যাতে ক্ষতি না হয়, সেই জন্য মোবাইলে একেবারে গেম খেলবেন না।

Leave a Comment