মোবাইল ব্যাবহারের ৮ টি ক্ষতিকর দিক

মোবাইল ফোনের ব্যাবহার বর্তমান বিশ্বকে সবার হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে।

মানুষ এখন ঘরে বসেই দেশ বিদেশের যে কোনো খবর জানতে পারছে। শুধু খবরই নয় বরং মোবাইল ফোনের কারণে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ, ব্যবসা, বানিজ্য,  চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি সব বিষয়েই কাজ করা  সম্ভব হয়েছে। মোবাইল আমাদের যেমন উপকার করে, তেমনি মোবাইল আমাদের ক্ষতি ও করে।

মোবাইলের ক্ষতিকর অনেক দিক রয়েছে।

মোবাইল ফোনের প্রভাবে মানুষ এখন নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই চলুন জেনে নেই মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিকগুলোঃ

মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ফলে শারীরিক সমস্যা গুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ জ্বালা করা, ঘাড় ব্যাথা করা,কানে সমস্যা, মাথা ব্যাথা করা, চোখে ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, জীবাণুর আক্রমণ, চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, চিন্তা শক্তি কমে যাওয়া, পর্নো আসক্তি, শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি।

1. চোখ জ্বালা করা

মোবাইল ফোন সহ যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দিকে দুই ঘন্টার বেশি সময় তাকিয়ে থাকলে চোখ জ্বলতে থাকে।

এমন মনে হয় যেনো গত দুই তিন দিনে ও ঘুৃম যায়নি। এটি মূলত মোবাইল ফোন থেকে বিচ্ছুরিত হওয়া এক ধরনের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে হয়ে থাকে।

মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে থেকে ঘামা রশ্মি নামের এক ধরনের ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়।

এই রশ্মির প্রভাবে চোখে জ্বালা করে, দৃষ্টি শক্তি কমে যায়, চোখে ঝাপসা দেখা যায়। তাই প্রয়োজন ব্যতিত অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যাবহার করবেন না।

তবে চাইলে চোখের সমস্যা এড়নোর জন্য এক ধরনের bluecut গ্লাস আছে যা মোবাইল ফোন থেকে নির্গত হওয়া ঘামা রশ্মি প্রতিরোধ করতে পারে, সেগুলো ব্যাবহার করতে পারেন। এতে আপনার চোখ সুরক্ষিত থাকবে।

2. ঘাড় ব্যাথা

দিনের বেশির ভাগ সময় আমরা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে মোবাইল স্কিনের দিকে তাকিয়ে কেটে দেই।

আর মোবাইল ব্যাবহারের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় আমরা ঝুঁকে থাকি। এর প্রভাবে আমাদের ঘাড় ব্যাথা হয়ে যায়।

আর তাই যতটা সম্ভব মোবাইল ফোন কম ব্যাবহার করবেন।

3. কানে সমস্যা হয়

মোবাইল ব্যাবহারের ক্ষতিকর দিকের আরেকটা দিক হলো কানে সমস্যা।

আমরা আমাদের অবসর সময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে উপভোগ করি। কেউ কেউ অনলাইনে ছবি, গান, নাটক, গজল ইত্যাদি দেখে তাদের অবসর সময় পার করে থাকে।

আবার অনেকে মোবাইলে গেমস খেলে অবসর সময় পার করে। এক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে ঘন্টার পর ঘন্টা কানে হেড ফোন লাগিয়ে থাকে। যার ফলে কানে সমস্যা দেখা দেয়।

কেউ কানে কম শুনে আবার কেউবা কানে পুরাই শুনে না।

4. অতিরিক্ত ক্লান্তি

অধিক সময় যাবৎ মোবাইল দেখার কারণে আমাদের দেহ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও ক্লান্ত হয়ে যাই।

মেজাজ চড়া হয়ে যায়। ফলে ঘরের কোনো কাজের প্রতি আর মন বসে না। মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যাবহারের ফলে শারীরিক পরিশ্রম কম করা হয়।

এই সমস্যাটি বিশেষ করে শিশু কিশোরদের সাথে বেশি হয়ে থাকে।

একদিকে কোনো কাজ না করা, অন্যদিকে সারাদিন মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ফলে শরীরে এক ধরনের অবসাদ চলে আসে। যার কারণে শরীর ক্লান্ত অনুভব হয়।

5. মাথা ব্যাথা করা

মোবাইল অতিরিক্ত ব্যবহার করার কারণে আমাদের প্রচুর সমস্যা হয়।

তার মধ্যে মাথা ব্যাথা অন্যতম। বিশেষ করে অনেকক্ষন  মোবাইলের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকার কারনে এই সমস্যাটি হয়ে থাকে।

কম বেশি আমাদের সকলের মাথা ব্যাথা হয়ে থাকে।

আর এটি মূলত মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যাবহারের কারণে। মাথা ব্যাথা ছাড়াও আরও নানা ধরনের সমস্যা মাথায় হয়ে থাকে।

6. মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়

অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ফলে ব্যাবহারকারীর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

বিশেষ করে যখন মোবাইল দেখে তখন স্বাভাবিকভাবে বাহিরের সব কিছুর প্রতি সে অমনোযোগী হয়ে পড়ে।

এবং মনের অজান্তেই অন্যের সাথে খারাপ ব্যাবহার করে। এই ধরনের পরিস্থিতির স্বীকার হলে মোবাইল ব্যাবহারের আসক্তি কমিয়ে আনতে হবে।

7. চিন্তা শক্তি কমে যাওয়া

সব কিছুই অতিরিক্ত খারাপ।

অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ফলে মানুষের চিন্তা শক্তি হ্রাস পায়। সৃজনশীল মেধা কমে যাওয়ার ফলে নতুন কিছু সৃষ্টির দক্ষতা কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও নকলের আশ্রয় নেওয়ার কারণে দিন দিন দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়তেছে।

দেশে দূর্নীতি বাড়ছে এই মোবাইল ফোনের কারণে। মোবাইল গেমস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিশুরা এখন খাবার ও সময়মতো খায় না।

8. আত্মহত্যার প্রবনতা বেড়ে গেছে

বর্তমানে মোবাইল ফোন সবার জন্য সহজলভ্য হয়ে গেছে।

এই মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যাবহার সমাজ ও মানুষের জীবনকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মোবাইল ফোনে আমাদের ব্যক্তিগত ইনফরমেশন ও বিভিন্ন ছবি রয়েছে।

অনেক সময় মোবাইল হ্যাক হয়ে বা ভূলে মোবাইলের থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। যার প্রভাবে সমাজে ও পারিবারিক জীবনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এবং অনেকেই এই সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে আত্মহত্যা করে।

এছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মোবাইল ফোনের আরো বিপুল ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।

শিশু কিশোরদের মধ্যে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ নষ্ট হয় এবং মা বাবার উপদেশ না মানার প্রবনতা সৃষ্টি হয়।

মোবাইল ফোনের ব্যাবহার তরুনদের মাঝে অতিরিক্ত সেলফি তোলার প্রবনতা দেখা যায়। যেটি মূলত এক ধরনের মানসিক রোগের অন্তর্ভুক্ত।

মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যাবহারে ঘুমের সমস্যা হয়। অনেকে রাত জেগে অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইল দেখে। এতে মস্তিষ্কের উপর প্রভাব পড়ে।

আমেরিকার এক তথ্য বিশেষজ্ঞের মতে, মোবাইল ফোন ব্রেন, মাথা ব্যাথা ও ঘাড় ব্যাথার কারণ।

দীর্ঘক্ষন মোবাইলের ব্যাবহার স্মৃতি শক্তি ও হার্টের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া মোবাইল ফোনে বেশি কথা বললে উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার এর মতো মারাত্মক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত আড্ডা ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার মনোযোগ নষ্ট করছে।

মোবাইল ফোনের প্রভাবে মানুষ এখন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং কর্মবিমুখ হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে আধুনিক জীবন যাত্রায় মোবাইল ফোনের গুরুত্ব অপরিসীম হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত মোবাইল ব্যাবহার সমাজ ও পারিবারিক জীবনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

তাই প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যাবহার করবেন না।