ভূলেও এই ৭ ধরনের দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না

বর্তমান যুগ ইন্টারনেট বা ডিজিটাল যুগ। এই যুগে প্রত্যেক মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন থাকে। মোবাইল ফোন নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মোবাইল ফোন না থাকলে যেন দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যায়। আর সেই জন্য প্রত্যেক মানুষ মোবাইল ফোন কিনতে যায় বিভিন্ন মোবাইল ফোন বিক্রেতার কাছে।

মোবাইল ফোন কিনতে গিয়ে অনেকে দোকানদারের দ্বারা প্রতারিত হয়। সেই জন্য সকলের জানা প্রয়োজন কোন কোন দোকান থেকে মোবাইল ফোন ভুলে ও না কিনা। আসুন জেনে নেই, যে ৭ ধরনের দোকান থেকে ভূলে ও মোবাইল ফোন কিনবেন না।

1. টেকনিক্যাল আচরণ ব্যাবহার করা দোকান থেকে

যে সকল দোকানদার খারাপ ব্যাবহার করে, যে সকল দোকানে কাস্টমার বেশি, ক্রেতার সাথে ভাব দেখায়, এমন আচরণ করে যেন আপনার মতো ক্রেতার প্রয়োজন নেই, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে এমন দোকান থেকে মোবাইল ফোন ভূলে ও কিনবেন না।

যেমনঃ আপনি একটি মোবাইল ফোন কিনবেন, সেই জন্য একটা মোবাইল দোকানে যান। এবং দেখেন দোকানে অনেক কাস্টমার মোবাইল ফোন দেখতেছে, তখন আপনি দোকানদারকে মোবাইল সেট দেখাতে বললে যদি দেখেন দোকানদার এমন আচরণ করে যে আপনার মতো ক্রেতার প্রয়োজন নেই, আপনার মতো দুই একটা ক্রেতা না হলে ও চলবে, আপনাকে পাত্তা দেয় না, আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে, এই ধরনের দোকান থেকে ভূলে ও মোবাইল ফোন কিনবেন না।

আপনি যদি তারপর ও এই ধরনের দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনেন, তাহলে মোবাইল ফোনটি চেক করে দিবে না, তাছাড়া মোবাইল ফোনের জন্য অগ্রীম টাকা নিতে পারে, পরে মোবাইল ফোন হয়তো দিবে না,  ওয়ারন্টি দেওয়া মোবাইল ফোনে সমস্যা দেখা দিলে আপনি যদি তার দোকানে মোবাইল ফোন নিয়ে যান, তাহলে আপনার সাথে কি রকম আচরণ করবে তা অনুমান ও করতে পারবেন না।

হয়তো আপনার মোবাইল ফোন ঠিক করে দিবে না, আচরণ খারাপ করতে পারে, পাত্তা না ও দিতে পারে, এই ধরনের ব্যবহারকে বলা হয় টেকনিক্যাল আচরণ। এই সকল টেকনিক্যাল আচরণ ব্যাবহার করে যে সকল দোকানদার মোবাইল ফোন বিক্রয় করে তাদের দোকান থেকে ভূলে ও মোবাইল ফোন কিনবেন না। এবং এই সকল দোকানের কাছে যাবেন না।

2. যে সকল দোকানে অফিসিয়াল ও আন অফিসিয়াল মোবাইল ফোন মিক্স করে বিক্রি করা হয়

অফিসিয়াল মোবাইল হলো কোম্পানির তৈরী নিজস্ব মোবাইল ফোন। অন্যদিকে আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন হলো কোম্পানির তৈরি মোবাইলের মতো হুবহু তৈরি করা নকল মোবাইল ফোন। অফিশিয়াল মোবাইলের চেয়ে আনঅফিশিয়াল মোবাইলের দাম কম হওয়ায় কিছু দোকানদার অফিসিয়াল ও আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন মিক্স করে বিক্রি করে প্রচুর টাকা লাভ করে।

অনেক সময় ক্রেতাদের লোভ দেখিয়ে অফিসিয়াল মোবাইল কোম্পানির নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে, তখন ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই সুযোগে তারা আনঅফিশিয়াল ফোন অনেক ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। যে সকল দোকানদার অফিসিয়াল মোবাইল ফোন কম দামে বিক্রি করে, মনে রাখতে হবে তারাই আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন মিক্স করে বিক্রি করে।

কাজেই এই সকল দোকান থেকে ভূলে ও মোবাইল ফোন কিনবেন না। আনঅফিসিয়াল ফোনে কিছু দিন পর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু অফিসিয়াল ফোনে সহজে সমস্যা দেখা দিবে না। আনঅফিসিয়াল মোবাইলে সমস্যা দেখা দিলে দোকানদারের কাছে যাওয়ার পর দোকানদার বলে এটা কোনো সমস্যা না, নতুন মোবাইল লিস্ট করতে বিটিআরসি কিছু সময় নেয়। কিছু দিন যাওয়ার পর ঠিক হয়ে যাবে।

তাই যে ফোন কিনবেন বা যে ব্রান্ডের মোবাইল ফোন কিনবেন, কেনার সময় অবশ্যই সেই মোবাইল কোম্পানির বিজ্ঞাপন অনুসরণ করবেন। কোম্পানির ক্যাটাগরির বাহিরে কোনো কিছু দেখতে পেলে অবশ্যই সেই দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না।

3. যে সকল দোকানদার আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রয় করে

মানুষ এখনো আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন ক্রয় করে। কিন্তু জেনে রাখা দরকার যে কোন সময় আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই যে সকল দোকানে আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রয় করে সেই সকল দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না। ২০১২ সালে আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বন্ধ হয় নাই।

কারণ সেই সময় আপনাদের বিটিআরসি থেকে মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই করার জন্য মেসেজ দেয় নাই। কিন্তু ২০১৯ সালের আগষ্ট মাস থেকে বিটিআরসি মোবাইলের বৈধতা যাচাই করার জন্য বারবার মেসেজ দিচ্ছে। অর্থাৎ অফিসিয়াল মোবাইল ফোন ছাড়া আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন না কেনার জন্য বলছে। তারপর ও অনেকে আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন কিনছে। আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন যে কোনো সময়  বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এতে  অনেকে সমস্যায় পড়তে পারে। এছাড়া সরকার গণমাধ্যমে ও জানিয়ে দিচ্ছে। তাই আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন কিনা বন্ধ করে দিন। অফিসিয়াল ফোন ক্রয় করুন। যদি ও অনেকে মনে করে সরকার বলছে, কিন্তু আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোন বন্ধ করছে না, আর বন্ধ ও হবে না। এই ধারণা ভূল। সতর্ক হোন। অফিসিয়াল মোবাইল ফোন ক্রয় করুন এবং আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন ক্রয় করা বন্ধ করুন। ভবিষ্যতের অজানা সমস্যা থেকে বাচুন। নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করুন।

4. বিটিআরসির মেসেজ নিয়ে খেলা করা দোকান থেকে

অনেক দোকানদার আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রয় করে। ক্রেতাকে বলে অফিসিয়াল। মোবাইল ফোনটি অফিসিয়াল না আনঅফিশিয়াল তা জানতে আপনি বিটিআরসিতে মেসেজ দিন। মোবাইল ফোনটি অফিসিয়াল বা বৈধ হলে সাথে সাথে মেসেজ আসবে। আর মোবাইল ফোন আনঅফিশিয়াল বা অবৈধ হলে  মেসেজ আসবে না।

এরপর ও অনেক দোকানদার মেসেজ না আসলে বলে মোবাইলটা নতুন। বিটিআরসিতে এখন ও লিস্ট করা হয় নাই, লিস্ট করা হলে মেসেজ এসে পড়বে। দোকানদারের এই সকল কথা পাত্তা দিবেন না এবং এই সকল দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না। তাই যে সকল দোকানদার বিটিআরসির মেসেজ নিয়ে খেলা করে বা মিথ্যা কথা বলে সেই সকল দোকান থেকে ভূলে ও মোবাইল ফোন কিনবেন না।

বিটিআরসিতে SMS করার নিয়মঃ KYT লিখে স্পেস দিয়ে আপনি যে নতুন মোবাইলটা নিচ্ছেন তার ১৫ ডিজিটের IMEI নাম্বার লিখে ১৬০০২ নাম্বারে পাঠিয়ে দিন। যদি মোবাইলটা অফিসিয়াল বা বৈধ হয় তাহলে সাথে সাথে মেসেজ পেয়ে যাবেন। আর আনঅফিশিয়াল বা অবৈধ হলে মেসেজ পাবেন না। তাহলে এই দোকান থেকে মোবাইল ফোনটি নিবিন না।

5. Evaly দোকানদার

EVALY একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এটি আপনার অর্ডার করা মালামাল কুরিয়ার অথবা যে কোনো মাধ্যমে আপনার কাছে পৌঁছে দেয়। অনেকে Evaly থেকে মোবাইল ফোন কিনে। আবার প্রয়োজনে সেই মোবাইল ফোন বিক্রয় করে।

Evaly থেকে ক্রয়কৃত মোবাইল ফোন বলে যদি কোন দোকানদার মোবাইল সেট বিক্রয় করতে চায় তাহলে সে দোকানদারের কাছ থেকে ভূলে ও মোবাইল ফোন কিনবেন না। হ্যাঁ দোকানদার যদি আপনার পরিচিত হয়ে থাকে তাহলে বিবেচনা করতে পারেন।

6. যে সকল দোকানে মোবাইল ফোনের বক্সের সীল খোলা থাকে

অনেক সময় দোকানে মোবাইল ফোন কিনতে গেলে দেখবেন যে দোকানদার আপনাকে যে মাবাইল ফোন দেখাচ্ছে তার বক্সের সীল আগেই খোলা ছিল। তাহলে বুঝতে হবে এই মোবাইলটা হয় আনঅফিশিয়াল বা নকল বা অবৈধ বা মেরামত করা বা পূর্বে ব্যাবহার করা অথবা পূর্বে কোনো ক্রেতা মোবাইলের ত্রুটি দেখে নেয় নাই। তাই এই ধরনের দোকান থেকে মোবাইল ফোন ভূলে ও কিনবেন না।

আবার কিছু ক্ষেত্রে দোকানদার আপনাকে বাক্সের সীল উঠে যাওয়া এই সকল মোবাইল  কম দামে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে। তাতে ও আপনি এই মোবাইল ফোন কিনবেন না। কারন এটা অবশ্যই আনঅফিশিয়াল বা নকল মোবাইল।

7. মার্কেট শর্ট মোবাইল ফোন দোকান থেকে

অনেক সময় দেখা যায় বাজারে নতুন ব্রান্ডের মোবাইল ফোন আসে। এবং বাজারে সেই নতুন মোবাইলের চাহিদা থাকে। তখন কোম্পানি গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে মোবাইল ফোন সরবরাহ করতে পারেন না। যদি আপনি মার্কেটে নতুন ব্রান্ডের মোবাইল ফোন কিনতে গিয়ে দেখেন দোকানে আপনার পছন্দের মোবাইলটি নেই।

কিন্তু দোকানদার বলে আপনি বসেন, অন্য দোকান থেকে এনে দিচ্ছি তাহলে আপনি সেই দোকান থেকে ভূলে ও মোবাইল ফোন কিনবেন না। কারণ দোকানদার আপনাকে তার কাছে থাকা ব্যবহৃত মোবাইলটা অন্য দোকানে গিয়ে ফ্লাশ মেরে প্যাকেট করে দিতে পারে অথবা হুবহু একই মডেলের নকল বা আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন দিতে পারে । এছাড়া যে কোন মোবাইল ফোন এক জনে ব্যাবহার করে অন্য জনকে দিলে যত ভালো মোবাইল ফোন হোক সেটা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাজারে যে সকল দোকানে কোম্পানির মোবাইল ফোন শর্ট থাকে আপনারা সেই সকল দোকান থেকে মোবাইল ফোন অবশ্যই অবশ্যই কিনবেন না।

আরও পড়ুন:

পুরাতন মোবাইল কেনার সময় এই ১০ টি ভূল ভূলে ও করবেন না

এখনি এই ৯টি অ্যাপস আপনার মোবাইল থেকে ডিলিট করুন

 

মোবাইল ফোন দ্রুত চার্জ করার ৫টি উপায় 

মোবাইল ফোন রুট করা উচিত (সুবিধা ও অসুবিধা) 

 

Leave a Comment