মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা বাড়াবেন যেভাবে!

আপনার জানার জন্য আজকে এই আর্টিকেলে মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা যেভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আর আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি আপনার ফোনের নিরাপত্তা বাড়াতে পারবেন এবং তথ্য চুরি হওয়ার বা ব্যাক্তিগত ইনফরমেশন হ্যাক হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।

মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা বাড়াবেন যেভাবে!

1. সফটওয়্যার আপডেট করে

প্রতিটি অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের তৈরি অ্যান্টিভাইরাস,অপারেটিং সিস্টেম বা যে কোনো অ্যাপের ত্রুটি দূর করার জন্য নিয়মিত আপডেট করে থাকে।

এতে করে অ্যাপগুলোর নিরাপত্তা বাড়ে।

তাই আপনার মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা বাড়াতে অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যান্টিভাইরাসের সাথে অ্যাপগুলোকেও নিয়মিত আপডেট করুন।

এতে করে আপনার মোবাইলের অ্যাপগুলো আগের চেয়েও অধিক নিরাপদ হবে। এবং সকল ধরনের সাইবার হামলা থেকে মুক্তি পাবেন।

2. বিনা কারণে অ্যাপ ইন্সটল না করে

অনলাইনে বহু অ্যাপ আছে।

কিছু অ্যাপ ক্ষতিকর, আবার কিছু অ্যাপ ভালো। এমন কিছু অ্যাপ আছে যেগুলো মোবাইলে নামানোর সাথে সাথে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে থাকে।

এরফলে মোবাইলে থাকা সকল তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই মোবাইল ফোনে প্রয়োজনীয় অ্যাপ ছাড়া অন্য কোনো অ্যাপ ইন্সটল না করাই ভালো।

এতে করে আপনার ফোনটি নিরাপদ থাকবে।

3. এন্ট্রি ভাইরাস ব্যাবহার করে

প্রয়োজন হলে মানুষ বিভিন্ন অ্যাপস অনলাইন থেকে মোবাইলে নামায়।

এর মধ্যে কিছু অ্যাপস আছে যেগুলো মোবাইলে ডাউনলোড করলে তার সাথে সাথে ভাইরাস ও মোবাইলে প্রবেশ করে। আবার অনেক সময় ফোন ব্যাবহারকারীর অজান্তেই ভাইরাস ডুকে যেতে পারে।

আর এরফলে মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই মোবাইল ফোনের নিরাপত্তার জন্য এন্টিভাইরাস ব্যাবহার করা প্রয়োজন।

4. স্কিন লক ব্যাবহার করে

প্রতিটি মোবাইলে স্কিন লক থাকে। আপনি আপনার মোবাইল ফোনে স্কিন লক ব্যাবহার করলে মোবাইলের নিরাপত্তা বাড়বে।

কারণ মোবাইলে স্কিন লক দেওয়া থাকলে, এটি যদি একবার বন্ধ হয়ে যায় তাহলে মালিক ছাড়া অন্য কেহ ফোনটি চালু করতে পারবে না।

এতে করে ফোন থেকে ব্যাক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে নাহ। তাই মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা বাড়াতে মোবাইলে স্কিন লক ব্যবহার করুন।

5. পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার না করা

ফ্রী ওয়াই ফাই/পালিক ওয়াইফাই এখন বিভিন্ন হাটে বাজারে, রেলস্টেশনে, হাসপাতালে, হোটেলে , বাসে, পার্কে পাওয়া যায়।

হ্যাকাররা ফ্রী ওয়াইফাই ব্যাবহারের সুযোগ নিয়ে আপনার মোবাইল এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

ফলে আপনার মোবাইলে থাকা সকল তথ্য চুরি করে নিয়ে নিতে পারে। তাই যেখানে সেখানে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যাবহার করবেন না।

এর ফলে আপনার মোবাইল ফোনের নিরাপদ বিঘ্নিত হতে পারে। তাই মোবাইলকে সুরক্ষিত রাখতে এই ধরনের পাবলিক / ফ্রী ওয়াফাই চালানো থেকে বিরত থাকুন।

6. প্লেস্টোর ব্যাবহারে সতর্কতা অবলম্বন করে

অ্যাপ নির্মাত প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন  অ্যপস তৈরি করছে।

তবে এই অ্যাপস গুলোর মধ্যে কোন অ্যাপসগুলো আমাদের জন্য নিরাপদ তা যাচাই করে গুগল প্লেস্টোর।

যাচাই করার পর নিরাপদ অ্যাপস গুলোকে প্লে-স্টোরে শো করে।  এগুলো আমাদের জন্য অধিক নিরাপদ।

কিন্তু কিছু কিছু অ্যাপস আছে যেগুলো গুগল প্লেস্টোরের নিরাপত্তা প্রাইভেসি ফাঁকি দিয়ে গুগল প্লেস্টোরে জায়গা করে নিয়েছে।

এই অ্যাপস গুলো ডাউনলোড করলে আমাদের মোবাইল সাইবার আক্রমণে স্বীকার হয়। তাই যেকোনো অ্যাপসই নামানোর আগে ভালো করে এর ডিটেইলস দেখে নিবেন।

7. এসএমএসে থাকা লিংকে ক্লিক না করে

সাইবার হামলাকারীরা মোবাইলের তথ্য, ছবি, অর্থ ইত্যাদি চুরি করার জন্য বিভিন্ন অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন, এসএমএস দিয়ে থাকে।

এসএমএসে অনেক সময় লিংক দেওয়া থাকে। এই সব লিংকে ক্লিক করলেই সাইবার হামলাকারীরা মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এতে মোবাইলে থাকা যাবতীয় ডকুমেন্টস তারা চুরি করে নিয়ে নিতে পারে।

শুধু এসএমএসের মাধ্যমেই নাহ বরং ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের অনেক লিংক থাকে।

যেগুলোতে ক্লিক করার সাথে সাথে আপনার মোবাইলের পার্সোনাল সব ইনফরমেশন অন্যের আয়ত্তে চলে যায়।

তাই মোবাইল ফোনের নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত নাম্বারের এসএমএসের লিংকে ক্লিক করবেন না।

8. গুগল প্লে প্রটেক্ট ব্যাবহার করা

গুগোল প্লে প্রটেক্ট ব্যাবহার করে মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব। Goole Play Protect মোবাইল ফোন ব্যাবহারকারীকে আগে থেকে ক্ষতিকর অ্যাপ সম্পর্কে সতর্ক করে।

এছাড়া মোবাইলে থাকা ক্ষতিকর অ্যাপগুলো মোবাইল ফোন থেকে সরিয়ে দেয়।

আশা করি পোস্টটি ভালো লেগেছে।  আর আপনি যদি আপনার ফোনের নিরাপত্তা বাড়াতে চান তাহলে অবশ্যই পোস্টে থাকা নিয়ম গুলো অনুসরণ করবেন।

নিয়মগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলে আপনার ফোনের নিরাপত্তা দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।