মোবাইল হ্যাং হলে আপনার করনীয়

যোগাযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিভাইসটি হলো মোবাইল ফোন। শুধু যোগাযোগ নয় বরং সব ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের ব্যাবহার রয়েছে। ব্যাবহারকারী সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় পড়ে তা হচ্ছে, মোবাইল ফোন হ্যাং হয়ে যাওয়া। তখন মোবাইল দিয়ে যে কোনো কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এরফলে অনেকে রাগেরবশতঃ মোবাইল ছুড়ে ভেঙে ফেলে। এই ক্ষেত্রে আপনার নিজেরই ক্ষতি হয়। তাই চলুন জেনে নেই মোবাইল ফোন হ্যাং করলে আপনার করনীয় কি? মোবাইল ফোন হ্যাং করলে আপনার করনীয় হলোঃ

1. ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা অ্যাপসগুলো বন্ধ করে দিন

আমরা আমাদের মোবাইল ফোনে অনেক অ্যাপস চালিয়ে থাকি। কখনো কখনো এমন হয় যে, আমরা ইউটিউবে ভিডিও দেখতেছি, হঠাৎ করে ইমুতে একটি ফোন বা মেসেজ আসলো, আর আমরা সেই মেসেজটি দেখতে ইউটিউব থেকে সোজা ইমুতে চলে যাই।

এক্ষেত্রে ইমুর সাথে সাথে ইউটিউবও চলমান থাকে। যেহেতু আমরা ইউটিউব অ্যাপসটির ভিডিও ক্লোজ করিনি অর্থাৎ অ্যাপসটি বন্ধ করিনি, তাই এটি ইমুর মতোই চলতে থাকবে। আর দুইটি অ্যাপস একত্রে চলার কারণে মোবাইলের উপর অধিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং মোবাইল হ্যাং করে।

2. Ram- memory কম হলে

RAM এর পূর্ণরূপ হলো Random Access Memory. এটি মূলত অভ্যন্তরীন মেমোরি হিসেবে কাজ করে। মোবাইলে থাকা যত অ্যাপস আছে সেগুলো Ram এর মধ্যে থাকে। আর বাড়তি যতগুলো অ্যাপস ডাউনলোড করা হয় সেগুলো মেমোরিতে থাকে।

এছাড়াও ছবি, নাটক, গান সবগুলোই মেমোরিতে জায়গা দখল করে। মোবাইলে Ram memory কম থাকলে মোবাইল ক্রয়ের কিছু দিন পর তা হ্যাং করতে শুরু করে।

মোবাইল ক্রয়ের পূর্বে এর Ram memory বেশি কিনা তা যাচাই করে নিবেন। এতে করে আপনার মোবাইল ফোনটি দীর্ঘ দিন ভালো থাকবে। অর্থাৎ তেমন হ্যাং করবে না।

3. 3D wallpaper থাকলে বন্ধ করে দিন

বর্তমানে স্মার্টফোনে ব্যাবহৃত wallpaper এর মধ্যে 3d wallpaper জনপ্রিয়। কম-বেশি অনেকেই এখন এই ধরনের wallpaper ব্যাবহার করে থাকে। স্কিনে আলো জ্বললেই জীবন্ত হয়ে উঠে wallpaper টি।

এই ধরনের wallpaper যেহেতু মোবাইলে চলতে থাকে তাই এর ফলে মোবাইল হ্যাং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও এটি প্রচুর পরিমাণ স্টোরেজ দখল করে।

4. ফোনের মেমোরি অতিরিক্ত ব্যাবহার করবেন না

ফোনে যেটুকু মেমোরি থাকে তা সবসময় খালি রাখার চেষ্টা করবেন। তবে প্রয়োজন বোধে ব্যাবহার ও করতে পারেন। ব্যাবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যেন যথেষ্ট জায়গা খালি থাকে। এরফলে স্মার্টফোন হ্যাং করবে না।

কিন্তু যদি ফোনের মেমোরি সম্পূর্ণ ব্যাবহার করা হয়, তবে মোবাইল অতিরিক্ত হ্যাং করবে। মোবাইলের সুরক্ষার জন্য চাইলে আপনি একটি SD card কিনে ব্যাবহার করতে পারেন। এতে মোবাইলের মেমোরিতে তেমন কোনো চাপ পড়বে না এবং মোবাইল হ্যাং করবে না।

5. অপ্রয়োজনীয় ডাটা ডিলেট করুন

ফোনে থাকা অপ্রয়োজনীয় ডাটা অর্থাৎ যেগুলোর প্রয়োজন শেষ সেগুলো ডিলেট করে ফেলুন। এতে আপনার ফোনটি সক্রিয় থাকবে এবং হ্যাং কম করবে।

কারণে অকারণে আমরা প্রতিদিন অনেক তথ্য, ফাইল, ভিডিও ইত্যাদি ডাউনলোড করি। এগুলো মোবাইলের স্টোরেজ দখল করে থাকে। তাই প্রয়োজন শেষে এগুলো ডিলেট করে দিবেন। ফলে আপনার মোবাইল হ্যাং করবে না।

6. Third party Anti Virus ভাইরাস অ্যাপস ব্যাবহার না করা

অনেকে মোবাইল ক্লিন রাখার জন্য অ্যান্টি ভাইরাস অ্যাপটি ব্যাবহার করে থাকেন। এগুলো মোবাইলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এছাড়া আপনার মোবাইলে নিজস্ব ক্লিন অ্যাপ সিস্টেম আছে। তাই আলাদা করে এসব থার্ট পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রয়োজন নেই। 

7. মোবাইলে গেম না খেলা

অনেকে মোবাইল দিয়ে প্রচুর পরিমাণ গেম খেলেন। এই গেমিং অ্যাপসগুলো মোবাইলের জন্য যতটা ক্ষতিকর, গেমগুলো খেললে মোবাইল তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ মোবাইল অতিরিক্ত হ্যাং করে।

মোবাইলে এইসব গেমিং অ্যাপস স্টোরেজ দখল করে মোবাইলের গতি কমিয়ে দেয়। মোবাইল দিয়ে এই গেমগুলো খেলার ফলে ব্যাটারি ডেমেজ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে মোবাইলের আয়ু কমে যায়। মোবাইল প্রচুর হ্যাং করে এবং কখনো কখনো পুরো ফোনটি নষ্ট হয়ে যায়। তাই মোবাইল হ্যাং করা থেকে বাঁচাতে চাইলে মোবাইলে কোনো ধরনের গেম খেলবেন না।

8. অতিরিক্ত মোবাইল ব্যাবহার না করা

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কারণে অকারণে সারাদিন মোবাইলের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকে অর্থাৎ অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যাবহার করে। মোবাইল অতিরিক্ত ব্যাবহার করলে মোবাইল অনেক বেশি হ্যাং করে।

তাই যতটা সম্ভব প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ব্যাবহার করবেন না। এছাড়া মোবাইল বেশি ব্যাবহার করলে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। চোখের সমসা ও কানের সমস্যা হয়। তাই মোবাইল যত কম ব্যাবহার করবেন, ততই আপনার লাভ, মোবাইল ও ভালো থাকবে।

9. অতিরিক্ত অ্যাপস ডাউনলোড করবেন না

মোবাইলের নির্ধারিত অ্যাপস ছাড়া অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত কোনো অ্যাপস ডাউনলোড করবেন না। অতিরিক্ত অ্যাপস ডাউনলোড করলে মোবাইলের স্টোরেজ Full হয়ে যায়। ফলে মোবাইলটি ধীরে ধীরে নিস্ক্রিয় হয়ে এর গতি কমতে থাকে এবং মোবাইল হ্যাং করতে শুরু করে।

তাই যতটা সম্ভব মোবাইলে প্রয়োজন ছাড়া বাড়তি কোনো অ্যাপস ডাউনলোড করবেন না।

পরিশেষে বলা যায় যে, উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে চললে আপনার মোবাইল হ্যাং করবে না, আর যদিও মোবাইল ফোন হ্যাং করে, তাহলে কম করবে। তবে মোবাইল পুরনো হলে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন মোবাইল এমনিতেই হ্যাং করে।

আরও পড়ুন :

মোবাইল ফোন দ্রুত চার্জ করার ৫টি উপায়

মোবাইল ফোন রুট করা উচিত( সুবিধা ও অসুবিধা) 

মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় 

মোবাইল ফোন ভালো রাখার উপায়