পুরাতন মোবাইল কেনার সময় এই ১০টি ভুল ভুলেও করবেন না!

আমরা সবাই চাই আমাদের একটা ফোন থাকুক।বিশেষ করে বন্ধুদের হাতে যখন ফোন দেখি তখন আমাদেরও একটা ফোনের জন্য আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়। কিন্তুু যথেষ্ট টাকা না থাকার কারনে বা আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে আমরা ফোন কিনতে সক্ষম হই না।

এক্ষেত্রে আমরা বেশিরভাগ সময় সেকেন্ড-হ্যান্ড বা পুরাতন মোবাইল কিনে থাকি। শুধু আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্যই নয় বরং অনেক সময় কম দামে ভালো মোবাইল দেখলেও আমরা তা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করি। কিন্তুু আবেগের বশে পুরাতন মোবাইলের কিনে যেনো পরে বিপর্যয়ে পড়তে না হয়, তাই পুরাতন মোবাইল কেনার আগে অবশ্যই আমাদের কিছু বিষয় জেনে রাখতে হবে।

1. মোবাইলের কোয়ালিটি চেক করা

প্রথমত মোবাইলটি বাহ্যিক ভাবে দেখতে কেমন সেটা চেক করতে হবে। অর্থাৎ, মোবাইলটি ভাঙা বা এর ডিসপ্লেতে কোনো দাগ বা ক্যামেরাতে কোন বালু বা ক্যামেরা আছে কিনা! যদিও পুরাতন মোবাইল ভাঙা, ডিসপ্লেতে দাগ বা স্পট থাকতেই পারে, তবও দেখতে হবে দাগ কি অল্প নাকি বেশি?

কারন দাগ অল্প হলে মোবাইলের উপর এর তেমন ইপেক্ট পড়বে না, কিন্তুু যদি দাগ বেশি হয় তাহলে মোবাইলের উপর এর মারাত্মক ইপেক্ট পড়বে। যেমন, মোবাইলটি অতিরিক্ত হ্যাং করবে এবং দেখতেও অসুন্দর লাগবে। তাই অবশ্যই পুরাতন মোবাইল কেনার আগে এর বাহ্যিক কোয়ালিটি দেখে নিতে হবে।

2. ডিসপ্লে কোয়ালিটি চেক করা

দ্বিতীয়ত, আমাদের দেখে নিতে হবে এর ডিসপ্লে কাজ করে কিনা! যদি ডিসপ্লে নষ্ট হয় তাহলে পুরো ফোনটাই অকেজো হয়ে যায়। তাই অবশ্যই ফোনটা হাতে নিয়ে এর ডিসপ্লে চেক করে নিতে হবে। যদি এর ডিসপ্লেতে সমস্যা থাকে, তবে না কিনাটাই ভালো হবে।

কারণ কম দামের পাল্লায় পড়ে ডিসপ্লে নষ্ট ফোন কিনলেও এটি চালাতে পারবে না। আর যদি মনে করেন যে, ডিসপ্লে ঠিক করে ব্যবহার করবেন তাহলে আমি বলবো যে, সেই টাকার সাথে আরো কিছু টাকা যোগ করে একটা নতুন ফোনই কিনে নিন।

3. ডাটা ও ওয়াইফাই কানেকশন চেক করা।

ডিসপ্লে চেক করার পরপরই দেখে নিবেন যে এর Data Connection, Wi-FiSIM Network Connection ঠিক আছে কিনা! কারন আমরা মোবাইল শুধু শো করার জন্য অর্থাৎ বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী এবং সহপাঠীদের দেখানোর জন্যই কিনি না। বরং আমরা মোবাইল ফোন কিনি একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ও ভিবিন্ন বিনোদনমূলক প্রোগ্রাম উপভোগ করার জন্য।

কারন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করার জন্য অবশ্যই এর নেটওয়ার্ক কানেকশন ভালো ও উন্নত মানের হতে হয়।

4. মোবাইলের সিম কার্ড চেক করা

মোবাইলের সিম কার্ড ঠিক আছে কিনা তাও দেখে নিতে হবে। যেহেতু এটা পুরাতন মোবাইল তাই হাত থেকে পড়ার কারণে এর সিম কার্ড বা সিম কানেকশন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তাই মোবাইল কিনার আগে মোবাইলটা হাতে নিয়ে এর ভিতরে একটা সিম ডুকিয়ে দেখতে হবে যে মোবাইলে সিম কানেকশন ঠিক আছে কিনা এবং মোবাইলের উভয় সিম স্লট কাজ করছে কিনা! এক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতার সাথে চেক করবেন।

5. মোবাইলের স্পিকার চেক করা

তাছাড়া, মোবাইলের স্পিকার ঠিক আছে কিনা, এটাও চেক করে নিবেন। কারন মোবাইল ফোন হলো আধুনিক যোগাযোগের সর্বত্তোম মাধ্যম। তাই আপনি যদি যোগাযোগ/কথা বলতে না পারেন, তাহলে ঔ মোবাইল আপনার কোনো কাজেই আসবে না।

আপনার রিলেটিভ কারো সাথে কথা বলে স্পিকার ঠিক আছে কিনা চেক করে নিন। মোবাইল কেনার অন্যান্য বিষয় গুলোর মতো এটিও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

6. ব্যাটারি চেক করা

অবশ্যই দেখে নিবেন মোবাইলের ব্যাটারি ভালো কিনা। কারণ মোবাইলের ব্যাটারি নষ্ট হলে পুরো মোবাইলটাই অচল। তাই মোবাইল হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চালিয়ে দেখে নিবেন চার্জ কতক্ষণ টিকে।

অবশ্য কিছুক্ষন চালালেই বুঝে যাবেন চার্জ টিকে কিনা। যদি মনে হয় ব্যাটারিতে সমস্যা আছে,  তাহলে সেটি না কিনাই ভালো।

7. চার্জার লাইন এবং চার্জার আছে কিনা

অনেক সময় হাত থেকে মোবাইল পড়ে গেলে এর চার্জার লাইনে সমস্যা হয় যার ফলে মোবাইল চার্জ হয় না, শট সার্কিট হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই চার্জিং পোর্ট ঠিক আছে কিনা এবং সেই সাথে মোবাইলের চার্জার আছে কিনা, তাও দেখে নিবেন।

যদি চার্জার থাকে তো ভালো, আর যদি না থাকে তাহলে আপনি মোবাইলটা আরো কম দামে কিনতে পারবেন। তাই অবশ্যই এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

8. মোবাইলের ক্যামেরার কোয়ালিটি চেক করা।

মোবাইল কিনার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো ভালো মানের সেলফি তোলা। যদি সেই সেলফিই তুলতে না পারেন, তাহলে মোবাইল কিনার কোন মানেই হয় না।

তাই অবশ্যই মোবাইল কেনার আগে এর ক্যামেরা স্পষ্ট কিনা, তা চেক করে নিবেন।

9. বিভিন্ন অ্যাপস সাপোর্ট করে কিনা

ওয়াফাই বা ডাটা কানেক্ট করে দেখে নিবেন মোবাইলে ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার,ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন ধরনের Apps সাপোর্ট করে কিনা। কারন আমরা আমাদের অবসর সময় গুলো বিনোদনের মাধ্যমে কাটিয়ে থাকি। আর ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক,লাইকি,ইনস্টাগ্রাম এগুলো আমাদের বিনোদনের সেরা মাধ্যম।

তাই এগুলো মোবাইলে চলে কিনা চেক করে নিবেন। কারন এগুলো ছাড়া বর্তমান যুগে মোবাইল কিনাটাই অযোক্তিক।

১০. মোবাইলটা চুরি করা কিনা!

এটা অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। মোবাইল কেনার আগে অবশ্যই জেনে নিবেন যে মোবাইলটা চুরি করা কিনা! কারন চুরি করা মোবাইল কেনার পর পুলিশের দৌড়ানি খেতে হয়, তাই অবশ্যই মোবাইলটি সেই ধরনের কিনা জেনে নিবেন।

যদিও সে আপনাকে সত্যি বলবে সময় মনে হয় না, তাই প্রমান স্বরুপ তার পরিচয়, বাড়ির এড্রেস এবং একটা ছবি নিয়ে নিবেন। তাহলে আপনিও সেভে থাকবেন আর মিথ্যে মামলার আসামিও হতে হবে না। কারণ, পুলিশ একবার পিছনে পড়লে দৌড়ানিতে থাকতে হয় কয়েকবছর। তাই অবশ্যই সাবধানে যাচাই করে ফোন কিনবেন।।

সর্বপরি, আপনি যদি মোবাইলের এতসব চেক করতে অক্ষম হন তাহলে “ফোন ডক্টর প্লাস ” নামে একটা অ্যাপস আছে সেটা ডাউনলোড করে ওপেন করে দিবেন।(Play store থেকেই নামাতে পারবেন) এটি নিজ থেকেই পুরো মোবাইলটা চেক করতে শুরু করবে এবং যেখানে যেখানে সমস্যা, তা চিহ্নিত করে দিবে।

যদিও পুরাতন মোবাইল কখনো নতুনের মতো হবে না, কিন্তুু যদি উপরে উল্লেখ করা বিষয় গুলো মনে রাখেন, তাহলে পুরাতন মোবাইল কিনেও লাভবান হবেন এবং ইনশাল্লাহ অনেকদিন পর্যন্ত টিকবে।

আরও পড়ুন ঃ

এখনি এই ৯ টি অ্যাপস আপনার মোবাইল থেকে ডিলেট করুন

ভূলেও এই সাতটি দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না

মোবাইল ফোন দ্রুত চার্জ করার ৫ টি উপায়

মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়

 

 

Leave a Comment