মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়।

প্রযুক্তির উন্নতি আর ইন্টারনেট এর বিপুল বিকাশের কারণে এখন স্মার্টফোন সকলের হাতে হাতে। প্রায় সব পেশা এবং শ্রেণির মানুষেরই প্রথম পছন্দ হলো মোবাইল ফোন। এটি মূলত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সহজলভ্যতার কারনেই সম্ভব হয়েছে।

কেননা এই স্মার্টফোনে ইন্টারনেট সংযোগ দিলে সমস্ত পৃথিবী হাতের মুঠোয় চলে আসে। এর মাধ্যমে দেশ বিদেশের যেকোনো খবরই মুহূর্তের মধ্যে পাওয়া যায়। দিনের অধিকাংশ সময় আমরা মোবাইলের স্কিনের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেই। যার ফলে মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

অনেকে আছে মোবাইলের চার্জ শেষ হওয়ার সাথে সাথে চার্জে লাগায় এবং চার্জ লাইনে সংযুক্ত রেখেই মোবাইলে গেমস খেলতে থাকি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরাঘুরি করি। এই চার্জ লাইনে সংযুক্ত রেখে মোবাইল চালানোর কারণে মোবাইলের ব্যাটারি প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মোবাইলের ব্যাটারিটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

শুধু যে চার্জে রেখে মোবাইল চালালেই ব্যাটারি নষ্ট হয় এমন নয়। স্মার্টফোনের ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার আরও বেশ কিছু কারণ আছে। তাই ব্যাটারি যাতে নষ্ট না হয় এবং মোবাইলের ব্যাটারি যাতে ভালো থাকে তার জন্য আমাদের কিছু করনীয় যেমন – 

1. ১০০% চার্জ থাকা সত্ত্বেও চার্জে দিয়ে রাখা

অনেক লোক আছে যারা সারা দিন মোবাইল চার্জে রাখে। এমনকি ১০০% চার্জ হয়ে যাবার পর ও মোবাইল চার্জে কানেকশন দিয়ে রাখে। এই রকম ভাবে সারাদিন মোবাইল চার্জে দিয়ে রাখলে মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যাবে।

যার ফলে ব্যাটারির চার্জ ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে যাবে এবং মোবাইল ব্যাটারিটি নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আপনি যদি আপনার মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখতে চান তাহলে এই ধরনের অভ্যাস ত্যাগ করুন।

2. মোবাইলে ১০০ ভাগ চার্জ সম্পূর্ণ না করা

যতটা সম্ভব মোবাইলের ব্যাটারি ৯০ হইতে ৯৫ ভাগ চার্জ করুন। এতে আপনার ব্যাটারি ভালো থাকবে। সপ্তাহে এক থেকে দুই বার ১০০% চার্জ করতে পারেন। তবে মোবাইলে সপূর্ন চার্জ না করে কিছুটা খালি রাখা ভালো।

ফলে মোবাইলের ব্যাটারির উপর কোনো চাপ পড়বে না এবং মোবাইলের ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ফলস্বরূপ মোবাইলের ব্যাটারি দীর্ঘ দিন ভালো থাকবে।

3. লিথিয়াম আয়রন যুক্ত ব্যাটারি

সাধারণত আমরা যে সকল স্মার্টফোন ব্যবহার করি, সেই সকল স্মার্টফোনের ব্যাটারি লিথিয়াম আয়রন যুক্ত। তাই ৩০ হইতে ৫০ ভাগ চার্জ থাকা কালে এটি সবচেয়ে ভালো সার্ভিস দেয়। ৩০ হইতে ৫০ ভাগ চার্জ থাকা কালে এর চার্জ ও খুব ধীরগতিতে কমে।

এ প্রক্রিয়ার সাহায্যে ব্যাটারি রিক্যালিব্রেট হবে। তাই ৩০ – ৫০ ভাগ চার্জ থাকা কালে ব্যাটারি চার্জে লাগানো উচিত না। তাহলে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ভালো থাকবে।

4. রাতে মোবাইল চার্জ দিবেন না

সারাদিন ব্যস্ত থাকার কারণে অনেকে মোবাইল ফোন চার্জে দেওয়ার সুযোগ পায় না। আবার অনেকে সকালে উঠে আর চার্জে দেওয়া লাগবে না এই ভেবে রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল চার্জে দিয়ে রাখে। এতে করে সারারাত মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতে থাকে।

কখনো কখনো বিদ্যুৎ প্রবাহ বেশি হলে ব্যাটারি ব্লাস্ট করতে পারে। আর তা না হলেও ব্যাটারি ফুলে বা গরম হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সারা রাতে মোবাইল ফোন চার্জে না দিলে ব্যাটারি ভালো থাকে।

5. চার্জে রেখে মোবাইল ব্যাবহার করবেন না

মোবাইল ফোন চার্জে রেখে কখনো সেটি ব্যাবহার করবেন না। এতে করে আপনার মোবাইল ফোনের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা মোবাইল ফোনে ১০০% চার্জ থাকা সত্ত্বেও চার্জে রেখে মোবাইল দেখে, কিংবা মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখলেই দ্রুত এসে চার্জে লাগায় ও চার্জে রেখে মোবাইল ব্যাবহার করে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় স্মার্টফোনে চার্জ দিয়ে গেম খেলার কারণে মোবাইলের ডিসপ্লে, প্রসেসর এবং অন্যান্য অংশ গুলোতে ব্যাটারি থেকে পাওয়ার ব্যবহৃত হতে থাকে

6. মোবাইলের চার্জ ২০% এর নীচে না আসলে চার্জে দিবেন না

মোবাইলে ঘন ঘন চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে চার্জ দিবেন। কিংবা চার্জ ২০% এর নীচে আসলে মোবাইল চার্জ দিবেন। মোবাইল চার্জ যখন ২০% এ চলে আসে তখন পুরো ডিভাইসটি দূর্বল হয়ে যায়।

এভাবে ২০% এর নীচে কয়েকদিন চালালে আপনার ব্যাটারির আয়ু কমে যাবে। আবার ৩০% এর উপরে থাকলে ও মোবাইলে চার্জ দিবেন না। দুটোই ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর।

7. ভালো ও উন্নতমানের চার্জার ব্যবহার করুন

স্মার্টফোনের ব্যাটারি ভালো রাখার অন্যান্য উপায়গুলোর মতো এটি ও অপরিহার্য। অনেক সময় স্মার্টফোনের খুব একটা ভালো চার্জার দেয় না। অর্থাৎ সেটি ফোনের তুলনায় খুবই নিম্নমানের। যার ফলে ঐ চার্জার দিয়ে চার্জ দিলে ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই একটু দাম বেশি দিয়ে দেখে শুনে ভালো মানের চার্জার কিনুন। এতে আপনার মোবাইলের ব্যাটারিটি দীর্ঘ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।

8. ব্যাটারির তাপ

অনেক সময় দেখা যায় মোবাইল চার্জে দেওয়ার ৩০ মিনিট পর মোবাইলের পিছনের অংশ অর্থাৎ ব্যাটারির সাইডে অত্যধিক গরম হয়ে যায়। তাই এই সময় মোবাইলের উপরের ব্যাক কভারটি খুলে দিবেন।

তার চেয়ে ও ভালো হবে যদি আপনি মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে চার্জে দেন। এতে মোবাইলের সবগুলো কানেকশন বন্ধ থাকবে। এবং ব্যাটারির উপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

9. ফাস্ট চার্জিং

আপনার মোবাইলে ফাস্ট চার্জিং না থাকলে অন্যেরটা দিয়ে করতে যাবেন না। এটি আপনার মোবাইলের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে আপনার মোবাইল ব্যাটারি গরম হয়ে যাবে। অত্যধিক গরম হয়ে ব্যাটারিটি ফুলে যেতে পারে। এবং অল্প সময় পর মোবাইলে আর তেমন চার্জ ধারণ ক্ষমতা থাকবে না।

10. নিজস্ব চার্জার ব্যাবহার

আমরা অনেকেই মাঝে মধ্যে অন্যের চার্জার দিয়ে মোবাইল চার্জ করে থাকি।এমনটা হয়ে থাকে যখন আমরা বেড়াতে যাই বা ঘুরতে যাই। তখন হয়তো মনের ভূলে মোবাইল চার্জার বাড়িতে রেখে আসলে এমন করি।

আবার কেউবা ব্যাগ থেকে চার্জার বাহির করার অলসতা থেকে অন্যের চার্জার দিয়ে চার্জ দেয়। সবসময় চেষ্টা করবেন নিজের চার্জার দিয়ে চার্জ দেওয়ার। কারণ আপনার ব্যাটারির জন্য যত পাওয়ার লোড হওয়ার প্রয়োজন, আপনার মোবাইল চার্জারটি ঠিক তত বিদ্যুৎই সরবরাহ করে। কিন্তু অন্যের চার্জারের ক্ষেত্রে তা কম অথবা বেশী হয়ে যাবে। তাই আপনার নিজস্ব মোবাইল চার্জারটি ব্যাবহার করুন।

মোটকথা মোবাইলকে সচল রাখে মোবাইলের ব্যাটারি। কিন্তু ভূল ব্যাবহারের ফলে খুব দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায় ব্যাটারি। তাই আপনি যদি উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে চলেন তবে আপনার ফোনের ব্যাটারিটি দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।

আরও পড়ুনঃ

ভূলে ও এই ৭ ধরনের দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না 

এখনি এই ৯টি অ্যাপস আপনার মোবাইল থেকে ডিলিট করুন 

মোবাইল ফোন দ্রুত চার্জ করার ৫টি উপায় 

মোবাইল ফোন রুট করা উচিত( সুবিধা ও অসুবিধা) 

 

 

Leave a Comment